ব্রেকিং নিউজ
Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | প্রতিটি নির্বাচনে দ্বীমুখী নীতি অবলম্বন করে বিএনপি

প্রতিটি নির্বাচনে দ্বীমুখী নীতি অবলম্বন করে বিএনপি

download (8)

ইরফান এইচ সায়েম : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক মুক্ত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশের গণতন্ত্র বজায় রাখতে যে কোন গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে নির্বাচন আয়োজন করা। সদ্য শেষ হওয়া তিন সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্কা ছিল এ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে কিনা। কিন্তু কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া এ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। যা বিগত কয়েক বছরের নির্বাচনের চেয়ে কম সহিংসতা সম্পন্ন নির্বাচন ছিল এটি। কিন্তু বরাবরের ন্যায় এ নির্বাচনেও বিএনপির দ্বীমুখী নীতি লক্ষ্য করা গেছে। এতে নির্বাচনে পরাজয় হলে তারা বলেন, এ সরকারের অধীনে নির্বাচন সম্ভব নয়। আর জিতলে বলেন, দেশের জনগণ আমাদের সাথে আছে। তাদের এ নীতি পরিহার করা দরকার বলে মনে করেন তারা।

সোমবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার অডিটরিয়ামে ‘সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন : গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এক মুক্ত আলোচনায় এ কথা বলেন তারা। রাষ্ট্র বিজ্ঞান সমিতি (রাস) এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। আলোচনা সভায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফেডারেল ইউনিয়ন অব জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, ইংরেজী পত্রিকা দি ডেইলি অবজারবারের সহযোগী সম্পাদক সৈয়দ বদরুল আহসান, ইউনির্ভাসিটি লিবারেল আর্টস’র অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খান। মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ড. গিয়াসউদ্দিন মোল্লা।

মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল বলেন, সিটি নির্বাচনের ধারাবাহিকতা বজায় না থাকাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ওই এলাকার জনগণ। ওই এলাকার নিবার্চিত প্রতিনিধি না থাকায় জনগণের সমস্যগুলো পূরণ করতে পারেনি। এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কিনা-এ নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্কা ছিল কিন্তু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এটি আমার দেখা সবচেয়ে কম সহিংসতা সম্পন্ন নির্বাচন। তিনি বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দ্বীমুখী নীতি অবলম্বন করে বিএনপি। পরাজয় হলে বলেন, এ সরকারের অধীনে নির্বাচন সম্ভব নয়। আর জিতলে বলেন, দেশের জনগণ আমাদের সাথে আছে। তাদের এ নীতি পরিহার করা দরকার বলে তিনি মনে করেন।

সৈয়দ বদরুল আহসান বলেন, আমরা নির্বাচনমুখী জাতি। যত প্রতিবন্ধকতাই আসুক বাঙালি সবসময় নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। ভবিষ্যতেও তারা নির্বাচনের পক্ষেই থাকবে। অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান বলেন, সমাজের সর্ব স্তরের মানুষকে ক্ষমতায়ন করাই গণতন্ত্র। গণতন্ত্রকে ভোটের মধ্যে সীমাবদ্ধ করার প্রবণতা থেকে আমাদেরকে বের হয়ে আসতে হবে।

ড. গিয়াসউদ্দিন মোল্লা বলেন, তিন সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু বিএনপি বিতর্কিতভাবে নির্বাচন বর্জন করায় দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সুস্থ পরিবেশ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি হয়েছে। দেশের রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে লন্ডভন্ড করা কোন প্রধান রাজনীতিক দলের কাম্য হতে পারে না বলে তিনি মনে করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*