ব্রেকিং নিউজ
Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | পাহাড়ে ব্যাপক হারে হ্রাস পাচ্ছে বাঁশ সম্পদ

পাহাড়ে ব্যাপক হারে হ্রাস পাচ্ছে বাঁশ সম্পদ

Lama Bas Coral Photo, 11 July'16

মো. নুরুল করিম আরমান, লামা : পার্বত্যাঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি সম্প্রদায়ের খাদ্য তালিকার মধ্যে রয়েছে অন্যতম সবজি হিসেবে বাঁশ কোড়ল। মূলত বাঁশের গোঁড়ার কচি নরম অংশকে বলা হয় বাঁশ কোড়ল। পাহাড়ের প্রায় সব স্থানেই মেলে এ সবজি। বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই বাগানে জন্ম নেয় নতুন নতুন বাঁশ কোড়ল। এসব বাঁশে পরিণত হওয়ার আগেই প্রতিদিন বাজারে বিক্রি হয় দেদার। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠিদের পাশাপাশি বাঙালিরাও এখন বাঁশ কোড়ল খেতে শুরু করায় এখন দিন দিন বাঁশ উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে। এহারে গত কয়েক বছরে পাহাড়ি উপজেলায় প্রায় কোটিরও বেশি বাঁশ অংকুরেই ঝরে পড়েছে বলে অভিজ্ঞমহলের ধারণা। সচেতন মহল জানিয়েছেন, বাঁশ কোড়ল নিধন অব্যাহত থাকলে আগামি কয়েক বছরের মধ্যেই এতদ্বঞ্চল থেকে বাঁশ সম্পদ একেবারেই হারিয়ে যাবে। তারা দ্রুত বাঁশ কোড়ল নিধন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেয়া অতিব জরুরী।

জানা গেছে, পাহাড়ে কয়েক প্রজাতির বাঁশ জন্মে। এর মধ্যে রয়েছে মুলি, দুলু, মিটিঙ্গা, কালি ও ছোটিয়া। এর মধ্যে মুলিবাঁশ বেশি জন্মায়। বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই আস্তে আস্তে বাঁশ বাগানগুলোতে জন্ম নিতে শুরু করে বাঁশ কোড়ল। জুন, জুলাই ও আগস্ট এই তিন মাস বাঁশের বংশ বৃদ্ধির মৌসুম। এটির নাম বাঁশ কোড়ল হলেও এটি সবজি হিসেবে খেতে খুবই সুস্বাদু বিধায় বর্তমানে উপজাতিদের পাশাপাশি এখানকার অনেক বাঙালিরাও বাঁশকোড়ল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলেছেন। এর আগেই শুরু হয় খাদ্য হিসেবে ও সংসারের আয় উপার্জনের জন্য বাঁশ কোড়ল সংগ্রহ। লামা পৌর এলাকাসহ তিন পার্বত্য জেলার সকল উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে এখন বাঁশকোড়ল বিক্রি করা হয় সচরাচর। গত সোমবার উপজেলার লামা সদর ইউনিয়নের মেরাখোলা থেকে মেথুইচিং (৩২) সপ্তাহে ৩-৪ দিন বিক্রির জন্য লামা বাজারে ১৫০-২০০টি হারে বাঁশ কোড়ল নিয়ে আসেন। প্রতি কেজি বিক্রি করা হয় ৬০ টাকা। গজালিয়া ইউনিয়নের উওয়াংচিং মার্মানিও বাজারে প্রায় প্রতিদিন একই পরিমাণ বাঁশকোড়ল বিক্রি করতে আসেন সংসার চালানোর তাগিদে। তাদের মতো আরও অনেকে সাপ্তাহিক দু’দিন হাট-বাজার ছাড়া প্রায় প্রতিদিন সকালে অথবা বিকেলে বাঁশকোড়ল বিক্রি করতে নিয়ে আসেন। বেসরকারি এক জরিপ মতে, পার্বত্য বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় উপজাতি জনসংখ্যা প্রায় দেড় লাখ। প্রতি পরিবারে পাঁচজন সদস্য ধরলে পরিবারের সংখ্যা ৪০ হাজার। প্রতিটি পরিবার সপ্তাহে একবেলা খাবারের সময় ১১টি বাঁশ কোড়ল খেলে এক মাসে এক একটি পরিবার ৪৪টি বাঁশ কোড়ল খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। সে হিসেবে তিন মাস বাঁশ জন্মানোর মৌসুমে ৪০ হাজার পরিবার অর্ধকোটির বেশি বাঁশকোড়ল খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করছে।

জানা যায়, গত চার বছর আগে পার্বত্য জেলায় বাঁশে ফুল আসে ও মড়ক সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি ইঁদুর বন্যা দেখা দেয়। ফলে একদিকে বাঁশ বাগানে মড়ক অন্যদিকে ইঁদুরও বাঁশ বাগান নষ্ট করে ফেলে। এতে বাঁশের উৎপাদন কমে যায়। রাতারাতি বাঁশের দাম বেড়ে গিয়ে প্রতি হাজার ১৮-২০ হাজার টাকা এসে দাঁড়ায়। ওই সময় অনেক মধ্যবিত্ত ও গরিব মানুষ ঘর মেরামত কিংবা নতুন বাঁশের ঘর তৈরি করতে সাহস পায়নি। প্রাকৃতিকভাবে বাঁশে মড়ক লাগার দু’বছরের মধ্যে আবার বাঁশের উৎপাদন শুরু হয়। গত বছর প্রতি হাজার মুলি বাঁশের দাম ছিল ১০-১১ হাজার টাকা। এরপরও অনেক পাহাড়ি পরিবার ঘর মেরামত ও নতুন ঘর তৈরি করতে অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছে বলে জানিয়েছেন, উপজেলার রূপসীপাড়া ইউনিয়নের হ্লাচাই পাড়া কারবারী ধুংচিং অং মারমাসহ আরো অনেকে।

এ বিষয়ে লামা বিভাগীয় বন কর্মকর্ত মো. রফিকুল ইসলাম চৌধুরী জানান, জুন, জুলাই ও আগস্ট মাস হচ্ছে বাঁশ জন্মানোর মৌসুম। এ সময় বাঁশকোড়ল সংগ্রহের ফলে বাঁশ উৎপাদন কমে যাওয়া স্বাভাবিক। তবে বন বিভাগের রিজার্ভ এলাকা থেকে কাউকে বাঁশ কোড়ল সংগ্রহ করতে দেয়া হয়না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*