ব্রেকিং নিউজ
Home | উন্মুক্ত পাতা | নিজেকে বদলাই মাহে রমজানে

নিজেকে বদলাই মাহে রমজানে

95

অধ্যাপক মুহাম্মদ আবদুল খালেক : রমজান আসে আর যায়। রমজান বদলানোর মাস এবং বদলিয়ে দেবার মাস। কারণ একটা- ‘কুরআন নাযিলের মাস’।

আর কুরআন সমগ্র মানবজাতির বদলিয়ে যাবার মহাগ্রন্থ। কুরআনের ভাষ্য মতে, ‘রমজান তাক্বওয়া অর্জনের মাস’।

অর্থাৎ আল্লাহ প্রদত্ত এবং রাসুল (সা.) প্রদর্শিত বিধি-বিধান নিজে মেনে আর অন্যকে মানিয়ে চলার মানসিকতা সৃষ্টি করা। এক কথায় ইসলামের পথে চলা। শারীরিক, মানসিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিকভাবে শুদ্ধ ও পবিত্রতা অর্জন।

মাহে রমজানে কুরআন অধ্যয়ন’র পরিবেশ সৃষ্টি অর্থাৎ অর্থসহ কোরআন পড়া ও শেখানোর ব্যবস্থা নেই বল্লে চলে। মসজিদে মসজিদে কোরান খতম হয়। আরবী ভাষাটা শোনা হয় মাত্র। তাও আবার স্পষ্ট নয়, দ্রুত পাঠ। অনেক সময় যের, যবর, পেশ পর্যন্ত চিহ্নিত করা মুসকিল। তারাবীহর পূর্বে যদি নামাজে পঠিতব্য অংশের বাংলা অনুবাদটা পাঠ করার ব্যবস্থা করা হয়; তাহলে আমরা কুরআনকে বুঝতে পারতাম। বুঝলে মানা সহজ হয়। নামাজে একাগ্রতা বৃদ্ধি পেতো। সারা জীবন কুরআন পড়লাম, শুনলাম। কিছুই হলো না। অন্তর, বাহির বদলাতে পারলাম না। অতএব মাহে রমজানে অর্থসহ কুরআন তেলাওয়াত করবো।

রমজান কোরআন শেখবার এবং শেখানোর মাস। এখনত মাহে রমজান টাকা কামানোর প্রধান মাসে পরিণত। অথচ মাহে রমজানের শিক্ষা হলো, বিগত ১১ মাসে কামানো-জমানো টাকা হতে দান খয়রাত করা। এই মাসে মুসলমান’রা কাঁদবে। এই মাস কাঁদার মাস। রহমত, মাগফিরাত আর নাজাতের মাস।

আল্লাহ’র প্রিয় বান্দায় পরিণত হবার মাস ‘মাহে রমজান’।

এই মাসে আছে ‘শবে কদর’।

যা সহস্র রাতের ইবাদতের সমান। তারপর ঈদুল ফিতর। মুসলমানের জন্যে প্রীতি, ঐক্য, সৌন্দর্য আর ভালোবাসার মহাসম্মেলন। ঈদ যায়, ঈদ আসে। ঈদ মানে প্রত্যাবর্তনের শপথ। পুরস্কার প্রাপ্তির দিবস। ঐক্যে, সৌন্দয্যে, মায়া-মমতায় মিলেমিশে থাকার প্রত্যয় আর দৃঢ় অঙ্গীকার। চুড়ান্ত আত্মসমর্পণের প্রিয় মুহুর্ত।

আমি বদলাবো, অন্যকেও বদলানোর আহবান করবো। একটা গল্প বলছি, ‘বাংলাদেশের একজন রাজনীতিবিদ সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার জন্যে গেলেন রমজান মাসে। আবাসিক হোটেলের ম্যানেজারকে বললেন, আমি সেহেরী কোথায় গ্রহণ করবো। অমুসলিম হোটেল মালিক ও ম্যানেজার বল্লেন, স্যার রোজাদারকে আমরা বিনামূল্যে সেহেরীর খাবার দিয়ে থাকি।

এমনকি হোটেল ভাড়ায়ও ডিসকাউন্ট আছে (শুধুমাত্র মাহে রমজানের সম্মানার্থে)।এই হচ্ছে মাহে রমজানে অমুসলিম ব্যবসায়ীদের চরিত্র।

সেহেরী ও ইফতার গ্রহণে খাবার আইটেম’র বাহুল্য ইসলাম সমর্থন করে না। ইফতার গ্রহণে যতোবেশি আইটেম হয়, ততোই যেন বাহাদুরী। এটা ফ্যাশনে পরিণত হয়ে গেছে। আমরা কি ইসলামের পথে চলি, নাকি আমাদের খেয়াল খুশির পথে ইসলামকে চালাই।

বিশেষ করে ব্যবসায়ীরা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে পাগলপারা। রমজান যেন টাকা উপার্জনের মাস। রমজানের আসল লক্ষ্য-উদ্দেশ্য থেকে আমরা যেন দূরে সরে গেছি। জনৈক ব্যবসায়ী বলাবলি করছে, রমজানের বেচাকেনায় আর লাভে বাকী এগারো মাস চলি। কি আজব কথা। মুসলমানের চরিত্র কি আজব। ভাবতে অবাক লাগে।

যাকাত-ফিতরা’ত অন্যের অধিকার। এখানেও কার্পণ্য লক্ষ্য করা যায়। যাকাত-ফিতরা কতো দিতে হবে কিংবা কখন দিতে হবে, কাকে দিতে হবে, কিভাবে দিতে হবে- এইসবের হিসেব আমাদের রাখতে ও জানতে হবে। আমার চারপাশের অনেকে আছে ‘নামেমাত্র’ যাকাত দেয়। হিসেব করলে ১০ লক্ষ টাকা দিতে হবে। রমজান আসলে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে বাহাবা কুড়ায়। ওয়াজ-নছিহতে আর মসজিদে আলেম-ওলামাদের এই ব্যাপারে বেশি বেশি তাগাদা দিতে হবে। না জানার কারণে এই গাফলতি। মানুষের অধিকারের কথা বেশি করে বলতে হবে।

মাহে রমজানের পুরস্কার আল্লাহপাক নিজে রেখে দিলেন এবং ‘আল্লাহ পাক নিজেই পুরস্কার বিতরণ করবেন’।

মুসলমানদের জন্যে এর চেয়ে বড়ো প্রাপ্তি আর কি হতে পারে। রাসুল (সা.) বলেন, কাউকে ইফতার করালে রোজার সম ছওয়াব পাওয়া যাবে। রোজাদারের মুখের গন্ধ মেশক’র চেয়েও অধিক সুগন্ধময় আল্লাহর কাছে। একটা ভালো কাজ কিংবা একটা টাকা দান করলে বিনিময়ে সাতশ’ গুণ বৃদ্ধিতে পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। নফল ইবাদতকে ফরজের মর্যাদায় উন্নীত করা হবে মাহে রমজানে ।

আসুন পবিত্র কোরআন বাংলা অনুবাদসহ পড়ি। নিজেকে বদলাতে পারবো পাশাপাশি অন্যকে বদলানোর সুযোগ হবে। আমরা মাহে রমজানের রহমত, মাগফেরাত ও নাজাতের অন্তর্ভূক্ত বান্দা হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করবো।

লেখক : সম্পাদক, লোহাগাড়ানিউজ২৪ডটকম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*