ব্রেকিং নিউজ
Home | অন্যান্য সংবাদ | ‘নামাজ হতে পারে সব সমস্যার সমাধান’

‘নামাজ হতে পারে সব সমস্যার সমাধান’

1431988797777

হাফেজ কারি মাওলানা মুফতি ওলিউল্লাহ পাটওয়ারী : আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা জিন ও মানুষকে সৃষ্টি করেছেন একমাত্র তার ইবাদতের জন্য। আর ইবাদতের মধ্যে সবচেয়ে অতি উত্তম ইবাদত হচ্ছে নামাজ। ইমানদারদের যত গুণ রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম গুণ হচ্ছে সবর। এই সবর ও নামাজই হতে পারে আমাদের সব সমস্যার সমাধান। আমরা যখনই কোনো বিপদে পড়ব তখন ধৈর্যহারা না হয়ে সবর ও নামাজের মধ্যে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করব। তাই তো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা পবিত্র কোরআনে সূরা বাকারার ৪৫ নম্বর আয়াতে বলেছেন, ‘তোমরা সবর ও নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা কর।

সাধারণত আমাদের সমাজে দেখা যায় অর্থলোভ ও পদমর্যাদার আকাঙ্ক্ষা মানুষকে অন্যায় আচরণে উদ্বুদ্ধ করে। হাদিসে আছে নবী করিম (সা.) বলেছেন, মানুষ যখন বয়োবৃদ্ধ হয়, তখন তার দুটি লোভ বৃদ্ধি পেতে থাকে। একটি হচ্ছে অর্থ সম্পদের লোভ অন্যটি পদমর্যাদার লোভ। মূলত এগুলো হলো মানব অন্তরের মহাব্যাধি আর এ ব্যাধির অব্যর্থ মহৌষধ হলো নামাজ এবং সবর। নামাজের মাধ্যমে যে বিনয় ও নম্রতার শিক্ষা লাভ হয় তা দ্বারা পদমর্যাদা লাভের যে লোভ মানব অন্তরে সৃষ্টি হয় তা দূরীভূত করা সম্ভব হয়। এমনিভাবে অর্থ লোভের রোগের অত্যন্ত সার্থক প্রতিষেধক হলো সবর।

হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবী করিম (সা.) বলেছেন, সবর তিন প্রকার- ১. বিপদাপদের সময় সবর ২. পাপাচার পরিহার করার জন্য সবর ৩. আল্লাহ ও তার প্রিয় রসুলের (সা.) হুকুম পালনার্থে সবর। হজরত আলী (রা.) বলেছেন, সবর হলো ইমানের রহস্য, তাই যার মধ্যে সবর নেই তার মধ্যে ইমানও নেই। দুনিয়াতে যদি কোনো লোককে সবর অবলম্বনের গুণ প্রদত্ত হয় তবে মনে করতে হবে যে তাকে সবচেয়ে উত্তম এবং ব্যাপকতর নেয়ামত প্রদান করা হয়েছে। সবরের তাৎপর্য হচ্ছে নিজেকে অন্যায় কাজ থেকে তথা আল্লাহপাকের অবাধ্য থেকে বিরত রাখা। বিপদে ধৈর্য ধারণ করা। জীবন সাধনার সার্থকতায় সবরের প্রয়োজন অত্যন্ত বেশি।

বিখ্যাত সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) সফরে ছিলেন এমন সময় তার ভাইয়ের মৃত্যুর সংবাদ পৌঁছল, তখন তিনি (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) পাঠ করলেন। এবং উটকে পথের পাশে বসিয়ে নামাজ শুরু করলেন এবং সুদীর্ঘ সময় পর্যন্ত নামাজরত রইলেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা পবিত্র কোরআনের সূরা বাকারার ১৫৩ নম্বর আয়াতে বলেছেন, হে ইমানদাররা তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা কর, নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন। হজরত হুজাইফা (রা.) বর্ণনা করেছেন, নবী করিম (সা.) যখন কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হতেন তখন তিনি নামাজে মশগুল হতেন। খন্দকের যুদ্ধের সময় হজরত হুজাইফা (রা.) নবী করিম (সা.) এর খেদমতে হাজির হয়ে দেখলেন তিনি নামাজরত আছেন।

হজরত আলী (রা.) বর্ণনা করেন, বদরের যুদ্ধের রাতে লক্ষ্য করেছি আমরা সবাই নিদ্রার সুখ ভোগ করেছি কিন্তু প্রিয় নবী (সা.) সারা রাত নামাজ ও দোয়ায় মশগুল ছিলেন। বদর যুদ্ধ ছিল ইসলামের ইতিহাসে প্রথম যুদ্ধ। ৩১৩ জন নিরস্ত্র প্রায় মুসলমান এক হাজার সশস্ত্র কাফেরের মোকাবিলায় সত্য ও ন্যায়ের জন্য আল্লাহ দীনকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার উদ্দেশ্যে নবীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে উপস্থিত হয়েছিলেন। এমনই সংকটময় মুহূর্তে তিনি বিনিদ্র রজনী যাপন করেছেন এবং নামাজের মাধ্যমে আল্লাহপাকের সাহায্য প্রার্থনা করেছেন। এমনিভাবে প্রিয় নবী (সা.) সব যুগের প্রতিটি মুসলমানের জন্য এ আদর্শ রেখে গিয়েছেন যে, যে কোনো সংকটের সময় আল্লাহপাকের মহান দরবারে নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করতে হবে এবং সবর বা ধৈর্য ও সহনশীলতার গুণে গুণান্বিত হতে হবে। -বিডিপ্রতিদিন

লেখক : ইমাম ও খতিব, দক্ষিণ পীরেরবাগ বায়তুন নূর জামে মসজিদ, মিরপুর, ঢাকা। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*