ব্রেকিং নিউজ
Home | অন্যান্য | ধৈর্য্যশক্তি বাড়ানোর নিয়ম

ধৈর্য্যশক্তি বাড়ানোর নিয়ম

power-struggle

ধৈর্য্য এমন একটি গুণ যা শুধু মানুষ নয় বিভিন্ন প্রাণির মধ্যেও দেখা যায়। জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ধৈর্য্যের প্রয়োজন। অনাগত সন্তানের অপেক্ষাই হোক বা জীবনের লক্ষ্য পূরণের জন্য হোক আপনার দরকার হবে অনেক ধৈর্য্যের। ধৈর্য্য নেই বলে অশান্তিতে আছেন? তাহলে নিচের উপায়গুলো অনুসরণ করা শুরু করে দিন এখনি, নিশ্চই আপনি সার্থক হবেন।

জীবনে সর্বদা ইতিবাচক মনোভাব রেখে চলুনঃ

আপনার ধৈর্য্যের ধারণার হিসাব থাকার জন্য সবসময় ইতিবাচক থাকা খুবই আবশ্যক। মনে রাখবেন জীবন কোন প্রতিযোগিতা নয়, কিন্তু এটি এমন একটি যাত্রা যা প্রতি পথে উপলব্ধি করতে হয়।

যে ব্যাপার গুরুত্বপূর্ণ তা-ই সবসময় মাথায় রাখুনঃ 

যা আপনার কাছে কোন ব্যাপার নয় তা ভুলে যাওয়ার এবং যা আপনার কাছে ব্যাপার তা সবসময় মাথায় রাখুন। জীবনে যা সবচেয়ে বেশি জরুরী সেটার উপর ফোকাস না করা হল অধৈর্য্যের জ্বালানী। ক্ষমাশীল, সদয় ও কৃতজ্ঞ হওয়ার চেষ্টা করুন ও যা গুরুত্বপূর্ণ তা থেকে সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করুন। যখন কম গুরুত্বপূর্ণ কিছু আমাদের অধৈর্য্য করার চেষ্টা করে তখন সেগুলো চিন্তা করতে যত বেশি সময় নেবেন ততই নতুন কিছু পাওয়ার আশা আপনার কমতে থাকবে।

স্মরণে রাখুন কোন কিছু পেতে হলে সময় লাগেঃ

যাদের ধৈর্য্য নেই তারা সবসময় সবকিছু পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে চায় না। যখন যা দরকার তখন তা না পেলে হয়তো তাদের মাথা ঠিক থাকে না অথবা তারা অন্যের মাথা খেয়ে ফেলে। মনে রাখুন কিছু জিনিস পেতে হলে অবশ্যই সময় দরকার,

  • নিজের সবচেয়ে সুখের স্মৃতি গুলো মনে করুন। দৈবক্রমে, সেগুলো আপনার ধৈর্য্যের ফলস্বরূপ দৃষ্টান্ত ছিল। ধরুন, কোন লক্ষ্য পূরণের জন্য অটলভাবে যখন আপনি কাজ করে গিয়েছিলেন নিশ্চই তা সেই সমর তৃপ্তিকর ছিল না অথবা কাছের মানুষটির সাথে সুন্দর সময় কাটানোর জন্য হয়তো আপনার একটু বেশি সময় লেগেছিল। সেই সময় আপনি যদি ধৈর্য্য না ধরতেন তাহলে কি এই স্মৃতি গুলো থাকত আপনার? সম্ভবত না।
  • যা আসলেই পাওয়ার যোগ্য তার প্রায় সব কয়টি পাওয়ার জন্যই সময় ও উৎসর্জন লাগে আর আপনি যদি অধৈর্য্য হন তাহলে আপনি সম্পর্কে, লক্ষ্যে ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জিনিস পাওয়ার জন্য হাল ছেড়ে দিবেন। ভাল জিনিস সবসময় ই তাদের কাছে আসে না যারা অপেক্ষা করতে পারে। কিন্তু অধিকাংশ ভাল জিনিসই যা পাওয়া সম্ভব তা সাথে সাথে আসে না।

সর্বদা মনে রাখবেন আপনি যা পেতে চান অবশেষে তা পাবেনইঃ 

এটি বোঝার জন্য আপনার পক্বতা ও ধৈর্য্য লাগবেই। শুধু কষ্ট করে কাজ করলেই হবে না, ধৈর্য্য ও ধরতে হবে। ধৈর্য্য একটি মানসিক কৌশল যা আপনি কখনই ভুলবেন না। তাই ধৈর্য্যকেও জীবনের লক্ষ্য হিসেবে দেখা শুরু করুন এখন থেকে। অধৈর্য্য কোন গর্ব করার মত বিষয় না বরং এমন কিছু যা থেকে আপনার নিজেকে মুক্ত করা উচিত।

অপ্রত্যাশিত আশা রাখুনঃ 

যা আপনি প্ল্যান করে রেখেছেন অনেক সময় তা না হয়ে তার উল্টোটাও হতে পারে, তাই কোন কিছু প্ল্যান করে রাখলে অপ্রত্যাশিত কিছু হতে পারে সেটাও ভেবে রাখবেন এবং সেরকম কিছু হলে ভেঙ্গে না পড়ে স্বাভাবিক ভাবে জীবনের দিকে ঘুরে তাকান। বাস্তববাদী আশা রাখবেন। মনে রাখবেন কেউই নিঁখুত ও নির্ভুল নয়। ধরুন, আপনার বাচ্চা বা জীবনসঙ্গীর হাত থেকে পানির গ্লাসটি পড়ে ভেঙ্গে গেল ঠিক তখনই যদি আপনি তাদের উপর ঝাপিয়ে পড়েন রাগ নিয়ে তাহলে আপনি ভুল। এমনকি ঘটনা যদি অন্য কিছুও হয় বা তার যদি পুনরাবৃত্তি ঘটে তাও আপনার ধৈর্য্য হারানো উচিত হবে না। কেননা ধৈর্য্য হারালে এসব ব্যাপার ঠিক তো হবেই না এমনকি বিগড়েও যেতে পারে। এগুলো আত্ন-নিয়ন্ত্রণ ও আলোচনা সাপেক্ষে সমাধান করা ভালো।

নিজেকে উপহাস করুন (প্রয়োজনে):

ধরুন, রাস্তায় চলতে গিয়ে কেউ আপনার ব্যাপারে আপনার সামনেই কোন মন্তব্য করল। এই অবস্থায় কি করবেন? ধৈর্য্য হারিয়ে রেগে যাবেন? নাকি তাকেও কোন কথা শুনিয়ে দিবেন? অবশ্যই না। এরকম মুহূর্তে তার প্রতি কর্কশ না হয়ে নিজে থেকেই কোন অভ্যন্তরীণ তামাশা করতে পারেন তাও নিজের প্রতি। এটি প্রায় সব ক্ষেত্রেই জাদুর মত কাজ করবে। নিজেকে উপহাস করা মানে আসলেই নিজেকে ছোট করা না, উপহাস করে আপনি অন্যকে উপলব্ধি করিয়ে দিতে পারেন যে সে যা করেছে তা ভুল।

খাবার ধীরে ধীরে চিবিয়ে খানঃ 

যারা খাবার ধীরে ধীরে খায় ও নিজের ক্ষুধাকে সহজে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে তারা সব মিলিয়ে তাদের থেকে অনেক কম খায় যারা খাবার দেখলেই ঝাপিয়ে পড়ে ও প্রায় গিলে খায়। গবেষণা করে দেখা গেছে যারা অধৈর্য্য তারা সাধারণত মাত্রারিক্ত ওজনের অধিকারী হয় সম্ভবত কারণ ডিনার টেবিল এ পরিতৃপ্তি বিলম্ব করা তাদের অক্ষমতা। তাই পরিতৃপ্তি বিলম্বি করার অভ্যাস করুন।

কোন কিছু বলার আগে তা ভেবে নিনঃ

মাথায় যা আসবে হুট করেই তা না বলে দিয়ে অন্তত একবার ভেবে নিন তা ঠিক কিনা। ধৈর্য্য ধরে কোন কিছু ভাবার পর তা বললে আপনি অহেতুক মানুষকে কষ্ট দেয়া থেকে বিরত থাকতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*