ব্রেকিং নিউজ
Home | উন্মুক্ত পাতা | তরুণেরা যেভাবে একটি ভাইরাসকে যুগেযুগে গায়ে মেখে ঔষুধে পরিনত করেছে…!

তরুণেরা যেভাবে একটি ভাইরাসকে যুগেযুগে গায়ে মেখে ঔষুধে পরিনত করেছে…!

16

আবদুর রহিম : জনস্বার্থে কাজ করার জন্য সমমনা মানুষের কাছে সময় চেয়েছিলাম সবাই সময় দিতে রাজি, তবে সময় বের করে আনাটাই যেন মহা মশকিল!

মানুষের মাঝে হাজারো ব্যস্ততা…. কারো কাছে সময় নেই, যেন সময়ের মূল্য দিতে শিখেছে মানুষ, এটা অবশ্যই ভালো দিক, তবে অনেককেই রাস্তার পাশে বসে আড্ডায় দেখি, চায়ের দোকানে রাজনৈতিক কুতর্কে মেজাজ গরম করতে দেখি, সিডি লাগিয়ে টিভির সামনে হা করে বসে থাকতে দেখি বেকার এক ঝাঁক তরুণ প্রজন্ম….! প্রজন্মের এই রূপ অত্যন্ত হতাশার, প্রজন্ম যদি বেকার সময়কে কাজে লাগাতে না শেখে তবে ভবিষ্যত অন্ধকার বলা যায়।

আসলে যারা মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করতে চাই তারা বেকার নেই! তারা নিজের কল্যাণ বা মানুষে কল্যাণ বয়ে আনার জন্যও অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। যারা বেকার বসে আছে তারাও মানুষ, তারাও অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে বেকারত্বের বোঝা বহন করে…….। বেকারত্ব তাদের কাছে আর বেকারত্ব মনে হয়না, একএক জন এক একটি রাজনৈতিক দলের যেন অঘোষিত টিকাদার রাজনীতিতে জড়িয়ে ভালোকে মন্দ আর মন্দকে ভালো বলে বেড়ানোর শয়তানি প্রকৃয়ায় তারা মেতে আছে। যা অত্যন্ত নিন্দার!!

এই মিথ্যার রাজনীতি মানুষের জন্য কল্যাণ বয়ে আনতে না পারলে অকল্যাণ ঠিকই বয়ে আনছে! দেখা গেছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে গিয়ে নির্দোষ মানুষকে দোষী বানিয়ে জেলে পাঠানো হয়েছে, হাহাকার বেদনায় কেঁদেছে ভূক্তভোগীর স্বজন! অবিশাপ্ত নোংরা রাজনীতি এবং বেকার তারুণ্য!!! বেকারদের মাঝে রাজনীতি বিলিয়ে দিয়ে অল্প মাসোহারা গিলিয়ে কেউ কেউ নেতা বনে যাচ্ছেন। নেতৃত্বের লোভে নিজের আদর্শকে বিকিয়ে দিয়েছে অনেকে অবলিলায়!

আমরা রাজনীতি চাই, চাই সমাজের উন্নতি। নীতিবোধের রাজনীতি ফিরে আসুক সমাজে রাষ্টে, বেকারদের বেকায়দায় পেলে নীতিহীন রাজনীতির দাবা খেলা বন্ধ হোক এটাই কাম্য! বেকার তরুণদের নোংরা রাজনীতির বেড়াজালে আটকে না দিয়ে তাদেরকে কর্মমুখী করার দির্ঘ্য ও সল্প মেয়াদী পরিকল্পনা নেয়া দরকার। এমন পরিকল্পনা নিয়ে কি কেউ এগিয়ে আসবে না?? নিশ্চয়ই আসবে, সমাজে যেমন খারাপ মানুষ আছে শয়তানি শক্তি প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে কাজ করার জন্য, ঠিক তেমনি ভালো মানুষও আছে, ভালো মানুষ গুলোকে এগিয়ে আসতে হবে খারাপ পরিবেশ সৃষ্টিকারী শয়তানি শক্তিকে রুখে দিতে।

অনেকে ভেবে থাকে জনস্বার্থে কাজ করা মানে নিজে নিজে নিঃস হয়ে যাওয়া, আসলে ঠিক তা নয়, জনস্বার্থ মানে নিজের স্বার্থ! নিজের পরিবারের স্বার্থ, নিজের সমাজের স্বার্থ, স্বার্থ গুলো প্রথমে দেখতে হয়তো নিজের মনে না হতে পারে, ভালো ভাবে দেখলে গুরে ফিরে নিজেরি স্বার্থ। নিজের জন্য করতে গিয়ে যদি আমার পাশের কেউ উপকৃত হয় তবে কেন অলস বসে থাকব? কেন নিজেদের জন্য ভাববো না???

বলতে গেলে হাজারো জনস্বার্থ আছে, যা নিয়ে কাজ করা যায়, জনসচেতনতা তৈরি করা যায়। আমি এখানে জনসচেতনতার জন্য একটি বিষয় বেচে নিয়েছি সেটা হচ্ছে (যৌতুক) যেহেতু যৌতুক একটি সামাজিক সমস্যার কারনে সমাজে হাজার প্রকারের সমস্যা তৈরি করে এবং হচ্ছে।

যৌতুক নামের ভাইরাস সমাজের রন্দ্রে রন্দ্রে প্রবেশ করে পেলেছে, বলতে গেলে প্রতিটি পরিবারে প্রবেশ করেছে !! সমাজ থেকে যৌতুক নামের ভাইরাসকে বিতাড়িত করার কথাই বলছি! দেখুন যৌতুক আমরা কিভাবে নিচ্ছি এবং দিচ্ছি!! কেউ যৌতুককে নিচ্ছে নগদ টাকা রূপে, আবার কেউ নিচ্ছে চকচকে ফার্নিচার রূপে, আবার কেউ নিচ্ছে টিভি, ফ্রিজ, মোটর সাইকেল অথবা বরযাত্রী রূপে।

অনেকে অনেক রকম মত প্রকাশ করে এই যৌতুকের রূপ গুলোকে মানুষের সামনে হালাল হিসেবে তুলে ধরার জন্য!

যেমনঃ
(ক) নগদ টাকা নিয়ে বলে আমাদের ঘরে ফার্নিচার আছে তাই ফার্নিচারের বদলে টাকা নিয়েছি কনে পক্ষের জোরাজুরিতে!!! অথবা আমাদের মোটর সাইকেল আছে তাই মোটর সাইকেলের টাকা নিয়েছি! জামাইকে কনে পক্ষ খুশি করে মোটর সাইকেল দিতে চাই, কি আর করা নিতেই হলো….!

(খ) ১. আবার কেউ ফার্নিচার নিচ্ছে, ফার্নিচার নিয়ে গর্ব করে বলে আমার শশুরালয় থেকে এত টাকা মূল্যের ফার্নিচার দিয়েছে। আমি যাকে বিয়ে করেছি তার বড় বোনের বিয়ে হয়েছে আগে, আমি যাকে বিয়ে করছি সেটা দ্বিতীয়, “অবশ্য” আমার বউয়ের বড় বোনকে ফার্নিচার দিয়েছিলো তাই ছোটকেও তারা ফার্নিচার দিবেই দিবে! এতে আমার কি করার আছে! …….নিতেই হলো!
২.ফার্নিচার দিয়েছে আর তেমন কিছু দেয়নি, আরে ফার্নিচার দিয়ে আমি কি করব? আমার বাড়িতে দেখ কত আগে আমরা ফার্নিচার বানিয়ে ঘর সাজিয়েছি, আমাদের ঘর ভরা ফার্নিচার, আমাদের ঘরের ফার্নিচার দেখে কনে পক্ষ আরো একটু উন্নত মানের ফার্নিচারই দিয়েছে, দিয়েছে তো সমস্যা নেই….. ফার্নিচার গুলো ওনাদের মেয়েইতো ব্যবহার করবে!!!!

(গ) ১. আমারতো মোটর সাইকেল আছে তবে একটু পুরানো আমার যা অবস্থান তা দেখে আমার শশুর বাড়ির লোকজন পুরানো মোটর সাইকেলে আমাকে দেখতে চাননা। তাই এক প্রকার জোরাজুরি করেই মোটর সাইকেলটা শোরুম থেকে কিনে দিয়েছে।
২. আরে আমার যা অবস্থান মোটর সাইকেল একটা বিষয় হলো? অন্য একদিক থেকে বিয়ে করতে চেয়েছিলাম তারাতো আমাকে প্রাইভেট কার দেবার জন্য আলোচনা করছিলেন। এখান থেকে বিয়ে হয়তো ভুল করেছি! না হয় প্রাইভেট কার নিয়ে চলা ফেরা করতে পারতাম…!!!

(ঘ) আসলে টিভিটি নিতাম নাহ্, আগের যে ২২ইন্সি রঙিন টিভি ছিলো সেটার মডেল পুরনো হয়ে গেছে, অন্যান্য বাজার করার সময় আমার শশুর টিভির কথা জিজ্ঞেস করলো, আর আমি টিভির ব্যাপারে শশুরকে সত্যি কথাই বললাম……! সে বললো ওটাতো অনেক পুরনো মডেল!!! এসো এখান থেকে একটি led টিভি নিয়ে যাও ৩২ ইন্সি। ব্যাস নিয়ে নিলাম। তা ছাড়া বউটা বড় আকারের টিভি দেখে অভ্যস্ত!!

(ঙ) বরযাত্রী, বরযাত্রী, বরযাত্রী!!!!? কতজন হতে পারে?
১ কারো ২০০ জন।
২ কারো ৩০০ জন।
৩ কারো ৪০০ জন।
৪ কারো ৫০০ জন।
৫ কারো ৬০০ জন।
৬ কারো ৭০০ জন।
৭ কারো ৮০০ জন।
৮ কারো ১০০০ জন।
এভাবে যেতে যেতে ২ হাজার, ৫ হাজার, ১০ হাজার পর্যন্ত গিয়ে টেকে!!!!

বরযাত্রীরা আগের জমানায় আমিষ খেত, এখন নিরামিষ আইটেম ও চাই!!! আইটেমের হিসাব যেন আতকে উঠার মত!

মুরগীর পোলাও, ফার্ম মুগরী ভুনা, দেশি মুরগী রাধা, গরু ভুনা, গরু রাধা, ছাগলের খোরমা, ছাগলের কলিজা ভুনা, ডিম সেদ্ধ, চিংড়ি ভুনা,(বড় গুলো) ছোট্ট মাছ ভুনা, বড় মাছের পোলাও, সুটকি ভর্তা, মুগডাল, কচুশাক, মরিছ ভর্তা, দধি অথবা কোমল পানীয়!!!!!

বরযাত্রীর সংখ্যা অনুযায়ী খরচের অংক হিসাব করে নেন বাবুর্চি!! অংকের দরকষাকষিতে যত গিয়ে টেকে ততই বহন করতে হয় কনে পক্ষেকে!
উল্লেখকৃত খরচ বহন গুলো যৌতুকের আওতায় পড়ে।

প্রবীণ বলেন বা নবীন বলেন সবাই কম বেশি এই যৌতুকের ব্যপারে অবগত আছেন। এবং এই যৌতুক নামের ভাইরাস শারিরিক বা মানসিক ভাবে বহন করেই চলছেন, কারো মুখে কোন শব্দ নেই প্রতিবাদের!! কারো কোন চিন্তা নেই পরিবর্তনের!! সবাই যেন নিরবতা পালন করছেন! এই নিরবতা ভাঙতে হবে….. যৌতুক মুক্ত সমাজ গড়তে হবে……..!! না হয় আগামী প্রজন্মের কাছে আমরা ঘৃণার পাত্র হয়ে থাকবো। আশা করি সবাই বিষয়টি নিয়ে অন্তত ৫ মিনিট চিন্তা করবেন, সাথে সাথে মনকে প্রশ্নের মুখোমুখি দাড় করাবেন এই প্রত্যাশা রাখলাম সবার কাছে।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*