ব্রেকিং নিউজ
Home | শিক্ষাঙ্গন | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এশিয়ার বৃহত্তম ই-লাইব্রেরি চালু

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এশিয়ার বৃহত্তম ই-লাইব্রেরি চালু

11794312_809332415853797_5484639048410379583_o

ইরফান এইচ সায়েম : প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদে নির্মিত হয়েছে এশিয়ার বৃহত্তম ই-লাইব্রেরি। মোবাইলফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেডের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠিত এ লাইব্রেরিতে বিশ্বের ৩৫টি বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তর্জাতিক প্রকাশনার বই পড়ার সুবিধা উন্মুক্ত হয়েছে। সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক এই ই-লাইব্রেরি উদ্বোধন করেন। অনুষদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এই ই-লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার জন্য গত বছরের ১০ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রবি আজিয়াটা লিমিটেডের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। চুক্তি অনুযায়ী এই লাইব্রেরির অবকাঠামোগত কার্যক্রম সম্পন্ন করতে ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা দিয়েছে টেলিকম কোম্পানিটি। এছাড়া, কম্পিউটার সুবিধা দিয়েছে ডেল, সফটওয়্যার স্থাপন সুবিধা দিয়েছে লজিক সফটওয়্যার আর কো-ফিন্যান্সার ওরিয়ন গ্রুপ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের তৃতীয় তলায় ১২ হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে নির্মাণ করা হয়েছে এই ই-লাইব্রেরিটি। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসংবলিত ই-লাইব্রেরিটি বিশ্বের ৩৫টি নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় ও পাবলিশার্স প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। টেইলর অ্যান্ড ফ্রান্সিস, সেইজ, ওয়ার্ল্ড সাইন্টিফিক, পিয়ারসন, ডে গ্রুইটার লিস বুকস কালেকশন, মেকগ্র হিল, মাই লাইব্রেরি, অক্সফোর্ড অনলাইন, ক্যামব্রিজের মতো নামকরা প্রতিষ্ঠান রয়েছে এ তালিকায়। শিক্ষার্থী ও গবেষকরা ই-লাইব্রেরি ব্যবহার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব জার্নাল ও বইসহ বিশ্বের প্রথম সারির এসব লাইব্রেরিতে পাওয়া যায়, এমন সব জার্নাল ও বই পড়তে পারবেন। প্রাথমিকভাবে বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ব্যতীত অন্য কোনো শিক্ষার্থী লাইব্রেরির সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন না।

ব্যবহারকারীদের ই-লাইব্রেরির সুবিধা পেতে এর সদস্য হতে হবে। তাদের একটি ম্যাগনেটিক পরিচয়পত্র প্রদান করা হবে। তবে শিক্ষাবিষয়ক বিভিন্ন ভিডিও ক্লিপ, ডিজিটাল কনটেন্ট ও বই ইচ্ছামতো বারবার দেখার সুযোগ রয়েছে এখানে। এর মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা পাবেন বিশ্বমানের সব সুযোগ-সুবিধা। এই লাইব্রেরিটির নকশা করেছেন স্থানিক আর্কিটেকচারাল কনসালটেন্টের মাজহারুল ইসলাম। লাইব্রেরিতে প্রবেশমাত্রই সফেদ আলো যে কারো মনে স্নিগ্ধতার পরশ বুলাতে বাধ্য। দৃষ্টিনন্দন আলোক সজ্জা। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মনোরম কক্ষ। পড়ার জন্য প্রয়োজনীয় সুসজ্জিত সব আসবাব। রয়েছে টিচার্স লাউঞ্জ, টিচার্স মিটিং রুম, স্টুডেন্টস ডিসকাশন রুম, সাইলেন্ট রিডিং রুম, এমফিল ও পিএইচডি স্টুডেন্টস রুম, সার্ভার রুম, জার্নাল সেকশন রুম, ব্রাউজিং সেকশন এবং ক্যাফেটারিয়া। এছাড়া, ফটোকপি এবং প্রিন্টিং সুবিধা থাকায় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন জার্নাল ও বই প্রিন্ট করে বাসায় নিয়ে পড়তে পারবেন।

বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলামের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ, প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সহিদ আকতার হুসাইন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো: কামাল উদ্দীন এবং রবি আজিয়াটা লিমিটেডের চিফ অপারেটিং অফিসার মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন।

ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক অত্যাধুনিক ই-লাইব্রেরি সুবিধার সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে বিশ্বমানের গ্র্যাজুয়েট হিসাবে গড়ে ওঠার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, তথ্য-প্রযুক্তির অপব্যবহার থেকে শিক্ষার্থীদের মুক্ত থাকতে হবে। ই-লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠায় আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করায় তিনি রবি আজিয়াটা লিমিটেড কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এরকম একটি মহতি উদ্যোগের সাথে যুক্ত হওয়ার সুযোগ দেয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, তরুণদের আপন শক্তিতে জ্বলে উঠার জন্য সহায়ক এমন কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার জন্য রবি সবসময়ই আগহ্রী। এভাবে ভবিষ্যত নেতৃত্ব বিনির্মাণে যুক্ত হতে পেরে আমরা গর্বিত। ই-লাইব্রেরির মাধ্যমে ই-বুক, বিজ্ঞান সাময়িকী ও গবেষণাপত্র সহজলভ্য হওয়ায় দেশের এইর্যাদাসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার মান আরো বৃদ্ধিতে সহায়তায় লাইব্রেরিটি স্থাপনের পাশাপাশি আগামী ১৫ বছর এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বেও থাকবে রবি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*