ব্রেকিং নিউজ
Home | লোহাগাড়ার সংবাদ | ডলু-টংকাবতীসহ বিভিন্ন খাল ও ছড়া হতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন হচ্ছে : সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব

ডলু-টংকাবতীসহ বিভিন্ন খাল ও ছড়া হতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন হচ্ছে : সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব

19

নুরুল ইসলাম : লোহাগাড়ায় ডলু, টংকাবতীসহ বিভিন্ন খাল ও ছড়া হতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পাচার হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রভাবশালীরা প্রতিদিন উপজেলার প্রায়সব খাল ও ছড়ার বালু সম্পদ লুটেপুটে খাচ্ছে। সরকারী নিয়মনীতি উপেক্ষা করেই প্রভাবশালীরা ট্রাকে ট্রাকে প্রতিদিন বালু পাচার করছে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পাচারের ফলে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে রাজস্ব হতে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট নজরদারী, খবরদারী কর্তৃপক্ষও নীরব ভূমিকায় বলে মনে করেন এলাকার সচেতন মহল। কারণ অজ্ঞাত। প্রভাবশালীরা অনেক সময় রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় বালু উত্তোলন করেন অবৈধভাবে। ইজারাদারদের অনেকে তার নির্দিষ্ট মহাল ছাড়াও অন্য একাধিক মহাল থেকে বালু উত্তোলন করে নীরবে। তারা বলে থাকেন এসব স্থান নিজস্ব ইজারাধীন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এসব তথ্য জানান, এলাকার লোকজন।
উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের ফারেঙ্গা পানত্রিশা এলাকায় ডলু খাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। সরই খাল থেকে ইজারা ছাড়ায় বালু উত্তোলন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। ফারেঙ্গার কিল্লাখোলা, পানত্রিশা, এমচরহাট এলাকা, নলুয়াবিল এলাকার প্রভাবশালী কতিপয় ব্যক্তি মিলেমিশে এসব স্থানে বালুর উপর রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে। উপজেলার পুটিবিলা ইউনিয়নের মিয়া পাড়া এলাকায়ও ডলু খাল থেকে জনৈক ব্যক্তি প্রভাব খাটিয়ে বালু উত্তোলন করছে অবৈধভাবে। উক্ত ব্যক্তি বালু উত্তোলনের জন্য একাধিক ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করছে বলে জানায় স্থানীয়রা। এখানে ব্যক্তি মালিকানাধীন খতিয়ানভূক্ত জায়গা থেকেও বাঁধা নিষেধ উপেক্ষা করে বালু উত্তোলন করার অভিযোগ উঠেছে। অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে এলাকার একটি মসজিদ ও একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে বলে জানা গেছে।
লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের হাজারবিঘা এলাকায় জনৈক ব্যক্তি রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় প্রভাব বিস্তার করে টংকাবতী নদী থেকে বালু উত্তোলন করছে। এলাকায় কয়েকটি বসতভিটা টংকাবতী গর্ভে বিলীন হবার আশংকা প্রকাশ করা হচ্ছে। ইতোপূর্বে আরো কয়েকটি বসতভিটা টংকাবতীর গর্ভে হারিয়ে গেছে বলে জানা যায়। এছাড়া উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া হাঙ্গর, জাংছড়ি, হাতিয়া, সুখছড়ি ও থমথমিয়াসহ বিভিন্ন ছড়া থেকে প্রতিদিনই ট্রাকে ট্রাকে বালু পাচার হচ্ছে।
জাংছড়ি খাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে চরম্বা ইউনিয়নের নয়া বাজারের নিকট জাংছড়ি ব্রীজ ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে বলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক সাদাত উল্লাহ জানিয়েছেন। অথচ ব্রীজের আশপাশ এলাকা থেকে বালু উত্তোলন বাঁধানিষেধ রয়েছে বলে অভিজ্ঞ মহল জানিয়েছেন। এসব বিষয়ে অচিরেই তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*