Home | উন্মুক্ত পাতা | জিন্দালাশ- ২৪ দ্বিতীয় পর্ব

জিন্দালাশ- ২৪ দ্বিতীয় পর্ব

Book230-web

তামাম দুনিয়ার বনি আদম’রা ভালোবাসার কাঙ্গাল। জন্তু-জানোয়ার, কীট-পতঙ্গ, মাছি-মশা এবং পিঁপড়াসহ সকল প্রাণী অর্থাৎ প্রজননের ক্ষমতা যাদের রয়েছে সকলেই ভালোবাসা চায় এবং ভালোবাসা দিতে চায়। অবুঝ শিশুরাও ভালোবাসা চায়। কে না চায় ? ওরাই চায় না, যাদের মানসিক ও শারীরিক অক্ষমতা রয়েছে। ভন্ডরা চায় না। রাস্তার পাগলরা পর্যন্ত ভালোবাসা চায়। জন্তুরা ভালোবাসা বুঝে, বনি আদমরা বুঝে না, বুঝতে চায় না। জিন্দালাশ। বনি আদমরা বুঝবে ক্যামনে ? ‘যতোক্ষণ পাতের ভাত, ততোক্ষণ আর্শীবাদ’। সবখানে হিসেব চলে; ভালোবাসায় হিসেব চলে না। যে যতো হিসেব করে, সেই ততো ঠকে। ‘কৈ এর তেলে কৈ ভাঁজলে, কি আর হয়’। নারীরা শুধু পেতে চায়, খেতে চায়। অন্যের অর্জিত টাকায় রং করে, ঢং করে। ‘ঢগের ওপর পচ্ছাতি লাগায়’। নারীদের লজ্জা-শরম কোথায় যে গেল ! শরমে পরান ফাইট্টা যায়। বর্তমানে নারীরা ভালোবাসা পায় না, দেহ পায়। ছি! বজ্জাত। কলিজায় বাসা বাঁধতে না পারলে কি ভালোবাসা পাওয়া যায়। ভালোবাসাহীন জীবন বেঁচে থাকা নয়। ভালোবাসতে গিয়ে নারীরা হিসেব করে বেশি। এক পয়সার গুণ নেই, চামড়ার দেমাগ কতো। রূপ আর গুণের মাঝামাঝি ভালোবাসা থাকে। যদিও রূপ ভালোবাসা শেখায়, রূপ ভালোবাসা জন্ম দেয়। ভালোবাসা দেহ এবং দেহাতীত। ভোগে ভালোবাসা এবং উপভোগেও ভালোবাসা। ভোগে ভালোবাসার মৃত্যু হয় আবার জন্মও হয়। উপভোগে চোখ জুড়ায়, পরাণ শান্তি হয়। উপভোগে ভালোবাসা মরে না। তবে জ্বালা বাড়ায়। দেহ সত্য তবে স্থায়ী নয়; ভোগেও ওরকোম। উপভোগ দেহাতীত এবং চিরস্থায়ী। বনি আদম ভোগ ভুলে, উপভোগ ভুলতে পারেনা। ভোগে কষ্ট কমায়, উপভোগ কষ্ট বাড়ায়। অধিকাংশ নারীরা ভোগে বিশ্বাসী। বস্তুতে আস্থা, ভাবে অবিশ্বাসী। এজন্যে নারীরা ভালোবাসা পায় কম, হারায় বেশী। দেখলে ভালো লাগে, ছুঁইতে পারলে আরো লাগে। কথা কইতে পারলে পরাণ ভিজ্জা যায়। আহা ! ভালোবাসা। ভালোবাসায় কি যে মজা, কি যে মধু। কেউ ভালোবাসলে ক্যামন ক্যামন লাগে। লাগেরে লাগ, বাজ্রে বাজ। ভালোবাসা কতো রকোম; কেবা জানে ? আমি জানি। একশ ভাগ হালাল কথা-বনি আদম যে যেরকোম, ভালোবাসাও ওরকোম। ভালোবাসা কেউ কারো মতো নয়। একেক জনের কাছে একেক রকোম। বজ্জাতের কাছে এক রকোম, ব্রাহ্মণের কাছে আরেক রকোম। মানুষের মন যা চায়-ওটাই ভালোবাসা। ভালোবাসার রথে চড়ে চলে পৃথিবী। মানুষের জন্যেই ভালোবাসা। ভালোবাসা বদলায়। সময়ের বদলায়, অসময়ে বদলায়। দুপুরে একরকোম, রাতে আরেক রকোম। মানুষও বদলায়। টাকা থাকলেও বদলায়। আবার টাকা হারালেও বদলায়। আমার বড়ো ছেলে ইউরেকা রাতে বদলায়, ছোট ছেলে তালহাও বদলায়, ছাত্র-ছাত্রীরা পাশ করে ফেল্লে বদলায়। ওবায়েদ মামা বদলাতে পারলো না। আশ্চর্য এক মানুষ। ওবায়েদ মামার জিদ্ ভালোবাসার জিদ্। হেফজখানা থেকে ফিরে ইউরেকা মায়ের পাশে ঘুমাবে, তালহাও। অথচ আমিই সবকিছু করি। যেখানে কোন কিছু কিনতে হবে, সেখানেই আমি। ওরা কি বদলাচ্ছ ? ভালোবাসা বুঝে না। চৌদ্দ গোষ্ঠীর ওপর ভালোবাসার লা’নত। আমি আল্ বেকায়দায় আছি। ইংরেজিতে Love আর বাংলায় ভালোবাসা। যদি একটু টেনেটুনে বলি, তাহলে ভালোবাসা মানে- কারো প্রতি অনুরক্ত হয়ে আসক্ত হওয়া, পছন্দ করা, ভক্তি করা, শ্রদ্ধা করা, প্রেম, অনুরাগ, বন্ধুত্ব, øেহ-প্রীতি, পছন্দ, টান ইত্যাদি। যে যেভাবে হাত বাড়ালো, সে সেইভাবে ভালোবাসা পেলো। যার রুচি যেরকোম, প্রেম-ভালোবাসাও ওরকোম। পাত্রের বয়স ৩৫, পাত্রী খুঁজে ১৬ বছরের। এখানে রুচির প্রকাশ ঘটে না। বিকৃত রুচির প্রকাশ পায়। এভাবে চলছে সংসার, প্রজনন। অন্যদিকে পাত্রী এইচএসসি পাশ, পাত্র দুবাই (বিদেশ) পাশ। বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে বৈষম্য। মেধাবী প্রজন্ম কিংবা চরিত্রবান হওয়ার সম্ভাবনা এখানে ক্ষীণ। তেঁতুল গাছ হতে আঙ্গুর প্রাপ্তির আশা-অজ্ঞতা, নির্বুদ্ধিতা, বোকামী আর কেয়ামতের আলামত। ভালোবাসার চাষ করতে হবে। ভালোবাসা কেনা যায় না; গাছের ডালেও ধরে না। মানুষকে ত্যাগী এবং আন্তরিক হতে হবে। শরীর আর মনকে সুন্দর, সুস্থ্য রাখতে ভালোবাসার প্রয়োজন। অন্যের দুঃখে দুঃখী হওয়া, সুখে সুখী হওয়া এবং অন্যের মঙ্গল আর উন্নতি কামনা করতে হবে। মিলেমিশে থাকার মানসিকতা পোষণ করতে হবে। নারীরা একা থাকতে চায়, একা খেতে চায়। এজন্যে নারী পায় কম; হারায় বেশী। নারী ত্যাগী হলে ভালোবাসার চেহেরা আরো উজ্জ্বল হবে। নারী দিতে চায় কম, নিতে চায় বেশী। এই মনোভাব পরিহার করতে হবে। যেটুকু পেলাম-কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। অথচ নারীর কষ্ট অনেক। আমি ভালোবাসাকে শত-সহস্রবার দেখেছি। যদিও ভালোবাসা চর্ম চোখে সহজে দেখা যায় না। অনুভবে এবং অনুভূতিতে ধরা পড়ে। øেহাস্পদ রুনোর বিয়েতে মেরির চোখের কোণের জলে ভালোবাসা দেখেছি। মেরির চোখের জলে আমিও জ্বলেছি। মেরির চোখের জলে ভালোবাসা ফুটেছে। কেন ? রুনো, মেরির রক্তের কেউ নয়। বিয়ের পরে ‘চাচী’ হবে। কনে পক্ষের কেউ নয় মেরি। এই বুঝি ভালোবাসার কান্না। রুনোর একমাত্র ভাবীও প্রাণভরে কাঁদলো। ননদের বিয়েতে ভাবী কাঁদে- এই প্রথম দ্যাখলাম। এমনিতে মেয়েরা ননদকে সহজে ভালোবাসার চোখে দেখে না। রুনোর ভাবী ব্যতিক্রম মেয়ে। ভালোবাসায় মানুষ কাঁদে। আবার কখনো হাসে। আমিও রুনোর বিয়েতে চোখের জল ধরে রাখতে পারিনি। ভালোবাসা মানুষকে মহৎ করে। অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধে আর øেহ প্রদর্শনেও ভালোবাসা ফুটে ওঠে। ভালোবাসা প্রাণে থাকে। প্রাণ হতে উচ্চারণ করলে বাঁধন ছিড়ে না। অন্যের প্রতি ঘৃণাবোধ ত্যাগ করি, অন্যের পশ্চাতে গুণের প্রশংসা করি। দোষের কথা বলতে বলতে সময় না কাটাই। আমি যেরকোম আমাকে ভালোবাসি, অন্যকেও ওভাবে ভালোবাসি। সুস্থ থাকি, চোখ ভরে ঘুমাই। আহা ! ভালোবাসা জিন্দাবাদ। (ফাইল লেখা)

লেখক : মুহাম্মদ আবদুল খালেক, সম্পাদক ও প্রকাশক, লোহাগাড়ানিউজ২৪.কম। মুঠোফোন- ০১৮২০-১৪১৪৫২

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*