Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | জঙ্গীবাদকে প্রতিহত করতে স্বাধীনতার স্বপক্ষের সঙ্গে বিএনপির হাত মেলানো উচিত : ঢাবিতে আলোচনা সভায় সৈয়দ শামসুল হক

জঙ্গীবাদকে প্রতিহত করতে স্বাধীনতার স্বপক্ষের সঙ্গে বিএনপির হাত মেলানো উচিত : ঢাবিতে আলোচনা সভায় সৈয়দ শামসুল হক

images (2)

ইরফান এইচ সায়েম, ঢাবি : হুমায়ূন আজাদ-রাজীব হায়দারের পর এবার জঙ্গীদের চাপাতির আঘাতে রক্তাক্ত হয়ে লুটিয়ে পড়লেন আরও দু’জন ভাষায় ভাবপ্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী লোক। এ ঘটনা ঘটেছে বিএনপির তথাকথিত রাজনৈতিক আন্দোলনের সময়। যদিও এই আন্দোলনের সাথে এই হত্যাকান্ডের কোন যোগ নেই। তবে জামায়াতীরাই এ আন্দোলনের সুযোগটা নিচ্ছে এবং তাদের করাল দাঁত প্রদর্শন করছে। এতে বিএনপির আন্দোলন চলুক বা না চলুক, জঙ্গীবাদী তৎপরতা থেমে থাকবে না। অচিরেই এমন একটা সময় চলে আসবে যখন ডান-বাম-মধ্য বলে কিছু থাকবে না। সব শরীরে রক্ত ঝরবে। এমতাবস্থায় বিএনপির আশু কর্তব্য হবে জামায়াতের সাথে শুধু সর্ম্পক ছিন্ন করা নয়, আওয়ামী লীগ ও স্বাধীনতার স্বপক্ষের সব দলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে একযোগে জামায়াত, জঙ্গীবাদ ও মৌলবাদকে বাংলার মাটি থেকে নির্বাসিত করার কাজ শুরু করা। স্বাধীনতা দিবস-২০১৫ উপলক্ষে বাংলাদেশ রুখে দাঁড়াও-এর আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে এ কথা বলেন সব্যসচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক। শনিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরসি মজুমদার মিলনায়তনে এ আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়। বাংলাদেশ রুখে দাঁড়াও-এর আহŸায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল, মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরের ট্রাস্ট্রি ড. সরওয়ার কামাল, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব ড. রামেন্দ্র মজুমদার, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এমএম আকাশ এবং বিশিষ্ট সাংবাদিক আবেদ খান। সৈয়দ শামসুল হক বলেন, দেশে জঙ্গীবাদ ও মৈালবাদ উত্থানের পেছনে যেমন বিদেশীদের সমর্থন ও সহযোগীতা রয়েছে তেমনী তাদের মোকাবেলায় সরকার ও জনগণের পাশাপাশি বিদেশেরও ব্যাপক সাহাজ্য দরকার হবে। সুলতানা কামাল বলেন, বর্তমানে দেশের সাধারণ জনগণ মানবেতর জীবণ-যাপন করতেছে। তারা শুধু প্রতিদিনকার জীবিকার জন্য ঘর থেকে বেরিয়ে নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারলেই যথেষ্ট মনে করছেন। তাই সময় এসেছে দেশকে যারা জঙ্গীবাদী রাষ্ট্র কায়েম করতে চাই তাদের বিরূদ্ধে রূখে দাঁড়ানোর। এতে যারা ভোটের রাজনীতি করে তাদের উপর আশা করলে হবে না, দেশের সাধারণ জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে। এক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক পরিবর্তনও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ড. সরওয়ার কামাল বলেন, বিএনপি জোট এতো জ্বালাও-পোড়াও করার পরও তাদের ভোট কমেনি বলে আমি মনে করি। তাই ভোটের রাজনীতির উপর আমাদের আশা করলে হবে না। জঙ্গীবাদ নিপাত করতে হলে দেশের সাধারণ জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে। এমএম আকাশ বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার জন্য কখনো গণজাগরণ মঞ্চের পক্ষ নেয়, আবার কখনো হেফাজতের। তাই তাদের উপর ভরসা করলে চলবে না। সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধে এদেশ থেকে জামায়াতকে বিচ্ছিন্ন করতে হবে। নইলে দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হবে। ড. আনিসুজ্জামান বলেন, যে ক্ষমতাসীন দল তাঁর বিরোধীদলকে মিছিল-মিটিং করতে দেয় না এবং যে বিরোধীদল মানুষের স্বাধীনতা হরণ করে। তাদের উপর ভরসা করল চলবে না। আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি বৈষম্যমুক্ত সমাজ গড়তে পারি। এক্ষেত্রে তরুণরা সবচেয়ে বেশী ভূমিকা রাখতে পারে। ড. রামেন্দ্র মজুমদার বলেন, অভিজিতের লাশ পড়ে আছে অথচ সাধারণ মানুষ কিংবা পুলিশ কেউ এগিয়ে আসছে না। এতে আমাদের কাছে এক ধরণের র্নিলিপ্ততা কাজ করে। এটা আমাদের সমাজে এক ধরণের প্রচলিত নিয়ম হয়ে গেছে। তবে এখনও আমি তরুণদের উপর আস্তা রাখি। তারা ২০০৮ সালে মুক্তিযোদ্ধের পক্ষের শক্তিকে ক্ষমতায় বসিয়েছে এবং পরবর্তীতে গণজাগরণ সৃষ্টি করেছে। আবেদ খান বলেন, এ পর্যন্ত আমরা ৮জন মুক্তমনাকে হারিয়েছি। আরও র্তাগেটে আছে শতাধিক। এ ঘটনায় বারবার ব্যর্থ হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাই আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মোকাবেলা করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*