Home | শীর্ষ সংবাদ | চুপ, হারামজাদা (স্মৃতিপত্র গল্প- ৭)

চুপ, হারামজাদা (স্মৃতিপত্র গল্প- ৭)

221

অধ্যাপক মুহাম্মদ আবদুল খালেক : হস্ত যোগ দীর্ঘ ঈ কার অথবা হ্রস্ব ই কার সমান হস্তী বা হস্তি। যেভাবেই বলি না কেন হস্ত মানে হাত; ঈ-কার কিংবা ই-কার হলো প্রত্যয়ের চিহ্ন। ফলে অর্থের বিশাল পরিবর্তন। ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম। বেতাল তাল, তালে বেতাল বাংলা ভাষা। ব্যাকরণের ভেল্কিবাজিতে প্রায় হয়রান কিংবা হতাশ। ‘হস্ত’ মানে হাত, প্রত্যয়ের চিহ্ন আছে বলে ‘হাতওয়ালা’ ব্যক্তিকে বুঝাতে পারে কিন্তু তা না বুঝিয়ে বিশালাকার জন্তু হাতীকে বুঝায়। এটা কি করে সম্ভব ? বাংলাদেশে সবই সম্ভব। বাংলাদেশে বাস করে স্বাধীনতা পছন্দ করে না, এমন লোকেরও অভাব নেই এ’দেশে। কি পছন্দ করে, কি পছন্দ করে না তাও বুঝা মুশকিল। আপন সহোদরকে (ভাইকে) টাকার বিনিময়ে পুলিশ দিয়ে পেটায়। আনন্দ প্রকাশ করে। নিজের বেলায় জায়েয, অন্যের বেলায় হলে নাজায়েয। নিজের ঘরে উল্লাস, অথচ অন্যের ঘরে একটু আনন্দ সহ্য হয় না। ফতোয়া দিতে সময় লাগে না। সুরা ফাতেহাটা পর্যন্ত জানে না। এমনকি বাংলা সরল অনুবাদও জীবনে পড়েনি অথচ ইসলামী চিন্তাবিদ, মরদে মুজাহিদ।

হাতীকে গুতোঁ দিচ্ছে ইদুঁর। হাতী আপন মনে হাটছে। ইদুর’ত গর্তে থাকে। হাতীর পায়ের তলা’ত বড়ো। কোথায় যেন হাতীর পায়ের চাপ ইদুঁরের গর্তের মুখে লেগেছে। ইদুঁর একটু কষ্ট পেলো। প্রতিশোধের আগুনে জ্বলছে দিবারাত্র। একদিন হাতি শুয়ে শুয়ে ঝিমুচ্ছে। ইদুঁর কোত্থেকে দেখতে পেলো হাতি বিশ্রাম নিচ্ছে। এ’দিকে মাছি-মশারা হাতীর মুখে, কানে বসছে। ইদুঁর দ্রুত গতিতে এসে হাতির পেছনের দিকে গিয়ে চিকন লেজ ঢুকিয়ে গুতো মারছে। অন্যদিকে মাছি-মশাদের আচরণে বিরক্ত হয়ে হাতি বিশালাকার কান দু’টো নড়াচড়া করছে। ইদুঁর’ত মহা খুশী। এবং বলছে মজা বুঝ, হাতি! কষ্ট আর ব্যথা কারে কয়। অনেকদিন পর প্রতিশোধ নিলাম। এই হাতি, আমাদের থাকার জায়গা তোর পায়ের চাপ দিয়ে নষ্ট করে দিয়েছিলি একদিন মনে পড়ে। আজ তার প্রতিশোধ নিলাম। ইদুঁর’র গুতোতে হাতির কিইবা হবে। ইদুঁর’র জন্মই শুদ্ধ নয়। জন্ম থেকেই অন্যের খাবার খেয়ে বড়ো হয়েছে। লজ্জা-শরম কম। আকল-বাকল, বুদ্ধি-বিবেচনাও কম। নাকেচ নালায়েক।

রাতে ইদানীং চোখে ঘুম আসে কম। ডাঃ হানিফ বল্লো এপিট্রা- ৫ খান। গিলি প্রতি রাতে। তুমি নেই বলে চোখে ঘুম আসে না। ছাত্র-ছাত্রীদের দ্যাখলে মন-প্রাণ ফুরফুরে থাকে। আবার মুহুর্তেই হতাশায় ডুবে মরি। পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করতে গেলে কলিজা ফাইট্টা যায়। আহা!রে স্বাধীনতা। একজন আরেকজন থেকে দেখে দেখে লিখছে। ওপেন সিক্রেট। চাকুরী হারানোর ভয়ে দায়িত্ব পালন করি। বাধ্য হয়ে। কোথায় সততা, কোন দেশে নীতি-নৈতিকতা বাস করে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অতি প্রশংসা ও অতি উৎসাহী মুখরোচক বক্তব্য দিয়ে ভেতরে ভেতরে সুবিধা গ্রহণ করছে এক শ্রেণীর দালাল প্রকৃতির কর্মকর্তা। দু’হাত ভরে কামাই করছে কাড়ি কাড়ি টাকা। দেখে লিখো না-’বল্লে পরীক্ষার্থী চোখ রাঙায়। তুমি পাশে থাকলে চোখে ঘুম আসতো। যথাসময়ে চোখে ঘুম আসা আল্লাহ পাকের বিশেষ রহমত।

তোমাকে এপিট্রা- ৫ খেতে হয় নাকি। মাঝে মধ্যে খেয়ো। নিশিতে ওঠে আকাশে হাত তোল। দু’হাতের তালু আল্লাহর রহমতে ভরে ওঠবে। এই মেয়ে, আল্লাহ কোন দলের একা নয়। সকলের। আল্লাহর কাছে ভালোবাসা চাও। কারণ আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আমাকে স্মরণ করলে, আমি তোমাদেরকে স্মরণ করবো’।

পথে এসো, পথ খুঁজে পাবে। (চলবে…)

লেখক : সম্পাদক, লোহাগাড়ানিউজ২৪ডটকম; প্রভাষক (বাংলা বিভাগ), আধুনগর ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা, লোহাগাড়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*