ব্রেকিং নিউজ
Home | শীর্ষ সংবাদ | চুপ, হারামজাদা (স্মৃতিপত্র গল্প- ৫)

চুপ, হারামজাদা (স্মৃতিপত্র গল্প- ৫)

202

অধ্যাপক মুহাম্মদ আবদুল খালেক : আগষ্ট মাস। কান্নার, কষ্টের, দুঃখের এবং প্রিয়জন হারানোর মাস। এ’মাসে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হারালাম, মা জননী আনোয়ারা বেগম এ মাসেই পরদেশে, সুপ্রিয় øেহধন্য সাংবাদিক আবদুর রহিমও নেই এবং গতো ৯ আগষ্ট ২০১৬ ভোর সকালে আমার ক্লাসমেট ও ফুফাতো ভাই এনামকে হারালাম। এভাবে আরো কতোজনকে হারিয়েছি। কলিজাটা ফুটো হয়ে আছে। ভালোবাসার মানুষকে হারানো মানে শুন্যতার দিগন্তে ধাবিত হওয়া। জানো, এখানে ক’জনের নাম যে উল্লেখ করলাম, তাদেরকে অকালে অসময়ে হারিয়েছি। জাতির ভাগ্যাকাশের শূন্যতার সাথে আমার ভালোবাসার শূন্যতা মিশে একাকার। নিজেকে বড়োই একা মনে হচ্ছে। নিজেকে ভালোবাসাহীন মনে হচ্ছে। আমার মা বিভিন্ন ফাতেহা অনুষ্ঠানে রান্না করা মাংশ পাঠিয়ে দিতো। বল্তাম ‘অ মা কি জন্যে ওসব পাঠাও, আমি’ত কিনে খেতে পারি। মা বলতেন, ‘আই মরি গেইলে বুঝিবি’।

এখন বুঝি হাড়ে হাড়ে। মা’র হাতের রান্না কি যে মজা হতো। মা’ত দোয়া-দরুদ পড়ে রান্না করতো। এখনকার মেয়েরা’ত দোয়া-দরুদ জানেও না। বজ্জাত। মা’কে বেশ মনে পড়ছে। এনামকে আমার মা বেশ ভালো জানতো।

কাকে জড়িয়ে ধরে বাঁচবো। এবার’র ঈদের নামাজ’র (২০১৬) পর আমার বাবাকে প্রাণভরে তাকিয়েছি। আমি তার প্রথম সন্তান। বাবা আমাকে নিয়ে বেশ গর্ব করে। মনে মনে এবং প্রকাশ্যে। আমার শরম লাগে। আমার বাবার শূন্যতা আমি পূরণ করতে পারিনি। আমি অপরাধী। কিভাবে করবো? ছাত্রজীবনে আমার বাবা আমাকে বেশি পিঠিয়েছিলেন। আমার অন্য ভাই- বোনেরা অতো মার খায়নি। প্রতিদিন আমার বাবার জন্যে দোয়া করি, ‘আল্লাহ, আমার বাবাকে একশত বছর সুস্থ হায়াত দাও’।

বাবা যে বছর চলে যাবে, আমিও ওইবছর চলে যাবো। দ্যাখো। কার ভালোবাসা নিয়ে আমি বাঁচবো। তুমি এসো।

কাঁদতে চাই। পারি না। ভালোবাসতে চাই তোমাকে পাশে পাই না। যতো কাছে যাই, ততো দূরে সরে যাও। চিৎকার করে দু’বাহু বাড়িয়ে বলো ‘ভালোবাসা চাই, ভালোবাসা চাই। এবং তোমাকেই ভালোবাসি’।

কখনো কখনো মাঝরাতে ওঠে তোমাকে খুঁজি। একটু কাঁদার জন্যে, একটু হাসার জন্যে, একটু হাতে হাত, গালে গাল এবং কপালে কপাল রাখার জন্য…..।

তোমার মাথার সিঁথি বেয়ে ওই দূর আকাশে যেতে ইচ্ছে করে। ছি! এসব কি বলছো। প্লিজ, হাতের ওপর হাত রাখো। দ্যাখো, পুরো পৃথিবী কাঁপছে। যেনো তালুতে ভূমিকম্প। ভালোবাসা মানে হৃদয়ের ভূমিকম্প। মন’ত মানে না। কেন, মানবে। মনের ধর্ম কথা বলা। চেতন, অচেতন ও অবচেতন মন জুড়ে তুমি বিচরণ করো। আমি বুঝি।

আচ্ছা, সত্যি করে বলো’ত- আমি ভালোবাসার কথা বল্লে তুমি এড়িয়ে যাও কেন। মহৎ, বিচিত্র ও সুন্দরভাবে বাঁচতে হলে ‘ঘর’ বাঁধতে হবেই। কবি রবীন্দ্রনাথ ৭২ বছর বয়সে তাঁর পুরনো প্রেমিকাকে ভালোবাসার অপার দিয়েছিলেন। এবং বলেছিলেন, ‘আকাশের সব তারা কি নিভে গেছে’? ভালোবাসার আলো নেভে না। তুমি নেভাতে চাও ক্যানো। জ্বলে ও পুড়ে যেতে চাও। বাইরে জ্বলো, পুড়ো কিন্তু ভেতরে ভেতরে জ্বলে পুড়ে লাভ নেই। কারণ পৃথিবীটা তোমার আমার। ভালোবাসাও তোমার-আমার। অন্যকে জ্বালানো-পোড়ানো ঠিক নয়। মসজিদের মিনার হতে যথাসময়ে উচ্চারিত হবেই- ‘আচ্ছালাতু খাইরুম মিনান নাউম’। (চলবে…)

লেখক : সম্পাদক, লোহাগাড়ানিউজ২৪ডটকম; প্রভাষক (বাংলা বিভাগ), আধুনগর ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা, লোহাগাড়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*