ব্রেকিং নিউজ
Home | শীর্ষ সংবাদ | চুপ, হারামজাদা (স্মৃতিপত্র গল্প- ১৪)

চুপ, হারামজাদা (স্মৃতিপত্র গল্প- ১৪)

327

অধ্যাপক মুহাম্মদ আবদুল খালেক : কবি জীবনানন্দ দাশের একটি কবিতার লাইন বেশ মনে পড়ে- ‘মাটি ও পৃথিবীর টানে মানবজন্মের ঘরে এসেছিলাম; না এলেই ভালো হতো’। মানুষের খাশলত কিভাবে বদলে যাচ্ছে দিন দিন, ভাবতেই শিউরে ওঠি। সবখানে টাকার খেলা। টাকায় মান, টাকায় চাকুরি। আদালতের রায় পর্যন্ত থানায় এসে অচল। তরুণ-তরুণীরা ফেসবুক নিয়ে ব্যস্ত অহর্নিশ। চোখের নিচে কালচে দাগ পড়েছে। হাতে কাজ নেই। বেকার। যুবক বেকারের দীর্ঘশ্বাসে বাতাস ভারি হয়ে ওঠেছে। শিক্ষার্থীরাও ফেসবুকে আসক্ত। শিক্ষকরা অবসর কাটায় ফেসবুকে। শিখছে প্রতিহিংসা, ঘৃণা আর নগ্নতা।

ফুফাতো ভাই ফরিদ ডাক্তার বল্লো, ছোট্ট সাইজের একটি টিভি কিনলে, দেশ-বিদেশের খবরাদি জানতে পারবি। আমি বল্লাম, আমার লাভ কি ? আমি’ত শিক্ষক, খবরাদি জেনে আমি কি করবো। সুখের খবর থাকলে হয়তো আনন্দে মন নেচে ওঠবে। অন্যথায় টেনশন। অন্যের টেনশন আমি বহন করবো কেনো। বই পড়ে আর দেশ ভ্রমণে জ্ঞানী হওয়া যায়। টিভি দেখে কি জ্ঞানী হওয়া যায়। টিভি বাক্স’ত বিনোদন বক্স নয়; রাজনৈতিক বাক্স।

বাংলাদেশের পতাকা স্বাধীনতার পতাকা বাড়ির ছাদে উড়াই না। ভিন দেশের পতাকা উড়াই। আহা! দেশপ্রেম। বিদেশ প্রেম ছাড়তে হবে। আমাদের দু’হাতকে কর্মীতে পরিণত করতে হবে। সুখী পরিবার গড়তে হলে দু’হাতকে কাজে লাগাতে হবে। আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গেলে মানসিক প্রশান্তি বাড়বে। পরিবারের সকল সদস্যকে নিয়ে দেশের বিভিন্ন বিনোদন স্পটে ঘুরতে হবে। বাড়ির চারপাশের খালি জায়গায় সবজির চাষ করি নিজ হাতে। বাড়ির ছাদেও ফুল-ফলের চাষ করা যায়। বাড়ির সবাইকে ব্যস্ত রাখি এবং নিজেও ব্যস্ত থাকি। ফেসবুক আর টিভি নয়। অবসরে নবী-রাসুল, অলি-বুজুর্গ আর মুণি-ঋষীদের লেখা পড়ি। শরীর-মন ভালো থাকবে।

এক ধরণের অস্থিরতা আর অজ্ঞাত ভয় আমাকে ঘিরে রেখেছে। আমার চারপাশের পরিবেশ-পরিস্থিতি কেমন যেন হয়ে গেছে। আমার সততা যেন আমার শত্র“। আমি’ত সরল পথে চলি। কারো চরিত্র নিয়ে ভাবিও না। যে যেরকোম, সেরকোম চলবে। আমার কি আসে আর যায়।

চট্টগ্রাম কলেজ’র প্যারেড মাঠ’র মাঝখানে জোছনা রাতে বসে থাকার স্মৃতি বেশ মনে পড়ছে। আমরা বেশ ক’জন বসে আড্ডা দিচ্ছি। কবি নজরুলের বিদ্রোহী কবিতা আমি বড়ো গলায় পড়ছি। জনৈক পুলিশ অফিসার উপস্থিত। বল্লেন এসব কি হচ্ছে। পিস্তল দেখে ভয় পেয়ে গেলাম। আমরা বল্লাম, কবিতা আবৃত্তি হচ্ছে। পুলিশ বল্লেন, পাগল’র দল। আমরা নিজেরাও বলাবলি করলাম ‘আমরা পাগল’।

পাগল না হলে কি আর জোছনার আলো গায়ে মেখে সবুজ ঘাসের ওপর বসে ‘বিদ্রোহী’ কবিতা আবৃত্তি করতুম।

কবি’রা এক প্রকার আধা পাগল। কারণ কবি’রা হৃদয় দিয়ে দেশকে, মানুষকে ভালোবাসে। সত্য বলে। কবি’রা মিথ্যার সাথে বসবাস করে না। আমি এক সময় কবিতা লিখতাম। এখান গদ্য লিখি। কবিতা কঠিন শিল্প। কবিতা লিখতে গেলে হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়। ‘ভালোবাসা মরে না’ কবিতাটি লেখার পর জনৈক বন্ধু বলেছিলো ‘পাগল কবি’। কবি’রা সাহসী হয়ে থাকে। কবি ও কবিতা মানচিত্র বদলিয়ে দিতে সক্ষম। তোমাকে বদলানো যাবে না। (চলবে…)

লেখক : সম্পাদক, লোহাগাড়ানিউজ২৪ডটকম; প্রভাষক (বাংলা বিভাগ), আধুনগর ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা, লোহাগাড়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*