ব্রেকিং নিউজ
Home | শীর্ষ সংবাদ | চুপ, হারামজাদা (স্মৃতিপত্র গল্প- ১১)

চুপ, হারামজাদা (স্মৃতিপত্র গল্প- ১১)

288

অধ্যাপক মুহাম্মদ আবদুল খালেক : ইচ্ছে করে অন্যকে খারাপ বলা বা ভাবা মানুষের চরিত্র হতে পারে না। অথবা অন্যের কথা শুনে রেগে যাওয়াও ঠিক নয়। মানুষ অনেক সময় নিজের লাভের কারণে হোক কিংবা অন্যকে বিপদে ফেলার জন্যে মিছেমিছি কথা বলেন। এরকোমও দেখা যায, অনেকে শপথ করে বলে, আপনাকে নিয়ে অমুকে গালমন্দ করেছে। অথচ অমুকে গালমন্দ করেনি। এই জাতীয় মানুষের কাছ হতে দূরে থাকা ভালো। ভদ্রজন’রা কখনো অন্যের দোষের কথা বলে না। লজ্জাবোধ করে। আমরা সমস্যার কথা বলি কিন্তু সমাধানের পথ খুঁজে বের করি না। এবং কোন বিষয় দ্রুত সমাধান হোক সেটাও চাইনা। সুসম্পর্ক কিংবা বন্ধুত্বের মাঝে ফাটল সৃষ্টি করতে চাই। এটা বদ্ অভ্যাস।

আমিরাবাদ ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম শাহে আলম খান (নসু মৌলভি) কে জীবদ্দশায় তাঁর এক ভক্ত এসে বল্লো, চেয়ারম্যান সাহেব অমুক ব্যক্তি আপনাকে নিয়ে চায়ের দোকানে বসে বিশ্রী ভাষায় গালমন্দ করছে। চেয়ারম্যান সাহেব সবশুনে বল্লেন, তুমি কি করেছো ? আমার রাগ ওঠেছিলো। ইচ্ছে করছিলো তাকে মেরে ফেলি। কিন্তু কিছু করিনি। চেয়ারম্যান বসা থেকে ওঠে ওই ব্যক্তিকে কাছে আসতে বল্লেন। এবং নিজ পায়ের জুতা খুলে ওই ব্যক্তির দু’গালে জোরে বসিয়ে দিলেন। উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে বল্লেন, কেউ আমাকে গালি দেয়নি; এই লোকটি গালি দিলো। গালি দেওয়ার সময়’ত ওই অমুক ব্যক্তিকে এই ব্যক্তিটি কিছু করেনি। বরং গালমন্দ বহন করে নিয়ে আসল। সুতরাং আমরা এইসব হারামজাদা’র সঙ্গ ছাড়বো।

শত্র“তা জিইয়ে রাখা বা পারিবারিক ডাইয়েরীতে লিখে রাখা মনুষ্যত্বের লক্ষণ নয়। ক্ষমা’ত মহত্বের লক্ষণ। শত্র“তা মনে রাখাও ভালো না। অনেক বন্ধুকে দেখেছি, কোন কাজ না থাকলে পূর্বের শত্র“তা নিয়ে আলোচনা করে। এবং প্লেন করে কিভাবে প্রতিশোধ নেওয়া যায়। ছি ছি ! হারামজাদা। এই পৃথিবীর স্মরণীয় বরণীয় পূজনীয় মানুষগুলোর সামনে এবং পশ্চাতে কতো আলোচনা-সমালোচনাই ছিলো। যারা মানুষের কল্যাণ চায়, যারা কাজ করে তাদের’ত সমালোচনা থাকবেই। আর যারা পরগাছা অর্থাৎ যারা মানুষের কল্যাণে কাজ করে না, তাদের সমালোচনা থাকার কথা নয়।

এই মেয়ে তুমি হয়তো জানো ‘বদনাম হবে জেনেও তোমায় ভালোবেসেছি’।

ধর্ম’ত মানুষকে ভালোবাসতে শেখায়। আমাকে যারা ইচ্ছেকৃত ঘৃণা করে অথবা অপছন্দ করে তাদেরকেই আমি ভালোবাসি একটু বেশি এবং প্রথমেই ঈদের শুভেচ্ছা জানাই। আমি নিজের দোষ খুঁজি এবং দোষ খুঁজে পেলে লজ্জিত হই। দোষকে গুণে পরিণত করতে সচেষ্ট থাকি।

অনেককে দ্যাখেছি অপ্রয়োজনে মিথ্যা কথা বলে। এমনকি মিথ্যা প্রশংসাও করে থাকে। গায়ে পড়ে প্রশংসা একদম অসহ্য। অন্তরে ভালোবাসা-বিশ্বাস নেই অথচ সামনে পড়লে প্রশংসার ফুলঝুড়ি। এই প্রকৃতির মানুষগুলো হৃদয়হীন। আমাদের সাথে থাকে, বসে, চলে কিন্তু পশ্চাতে ঘৃণার তীর ছুঁড়ে। আমরা সব বুঝি; বলি না। কারণ তেঁতুল গাছে আঙুর ধরে না। আঙুর ধরানোর চেষ্টা বোকামী।

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় সাংবাদিককে মানুষ সাংঘাতিক বলে। কেন বলে ? বলবে না কেন ? বলবেই বা কেন ? শরম লাগে সাংবাদিক পরিচয় দিতে। তবুও দিতে হয়। শূন্যতা যদি আমাকে খেয়ে বসে। আসন ছেড়ে দিতে নেই। সত্য কে লিখবে ? যেমন ইচ্ছে তেমন লেখার নাম সাংবাদিকতা নয়। যেটা হবার নয়, তার পেছনে ছুঁটাও ঠিক নয়। কানের ভেতর দিয়ে মরমে পৌঁছাতে পারাটা সফলতা। জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক। (চলবে…)

লেখক : সম্পাদক, লোহাগাড়ানিউজ২৪ডটকম; প্রভাষক (বাংলা বিভাগ), আধুনগর ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা, লোহাগাড়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*