ব্রেকিং নিউজ
Home | শীর্ষ সংবাদ | চুপ, হারামজাদা (স্মৃতিপত্র গল্প- ১০)

চুপ, হারামজাদা (স্মৃতিপত্র গল্প- ১০)

278

অধ্যাপক মুহাম্মদ আবদুল খালেক : ‘প্রেমের মরা জ্বলে ডুবে না’।

আসলে কি ডুবে না। নাকি ডুবে। আসলে ডুবে না কারণ আরেকজন’ত বেঁচে আছে। প্রেম করতে দু’জন লাগে। যে বেঁচে থাকে, তার অবস্থা হয়ে যায় বেগতিক। বেঁচে থাকা মানুষটির চোখের জলেও জ্বালা নেভে না। পৃথিবীতে কারো ব্যথা কেউ বুঝে না। একেক জনের ব্যথা একেক রকোম। মানুষ বলতেই প্রেম পাগল। প্রেম ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না। যারা বাঁচে তারা’ত হিজড়া।

দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে প্রেমের সংজ্ঞা ভিন্ন রকোম হতে পারে। প্রেম চেতনা মানুষকে মানবিক করে তোলে। মানুষ হয়ে ওঠে সুন্দর মার্জিত ও শৈল্পিক। অন্তর হয়ে ওঠে সৌন্দর্যমন্ডিত। প্রেম হলো অন্তরে লালিত রূচিবোধের বহিপ্রকাশ। প্রেম দৃশ্যমান বিষয়। যদিও ভেতরের স্পন্দনের প্রকাশ। ক্ষেত্র বা ব্যক্তি বিশেষে সুন্দরও হতে পারে আবার অসুন্দরও হতে পারে। ‘লিভ টুগেদার’ত প্রেম হতে পারে না। এটা বদমায়েশী। প্রেমের কলংক।

প্রেমের উৎস কিন্তু দেহ। আবার অশরীরিও হতে পারে। শুধু স্পর্শের নাম প্রেম হতে পারে না। স্পর্শ ছাড়াও প্রেম হয়। স্পর্শ বিষয়টি প্রেমের পরিণতি হতে পারে। যদিও এই পরিণতি আমি মানি না। প্রতিটি মানুষ বড়োই একা। একা থাকলে কেবল নিজের সাথে নিজে কথা বলে। এই যে একজনের ভেতরে আরেকজন। সেই আরেকজনই প্রেম শেখায়, ছাড়ায় এবং জ্বালায়। মানুষের ভেতরটা চেনা বড়ো দায়। কেউ কাউকে চিনতেও পারে না আবার বুঝতেও পারে না। তবুও মানুষকে প্রেম ছাড়ে না।

প্রেমের সান্নিধ্যে মানুষ মহৎ ও বিচিত্র হয়। চাঁদেরও কলংক আছে। প্রেমেরও কলংক থাকবে। এটা বিধান, এটা নিধান। মানুষ কি কলংকমুক্ত। কখনোই নয়। মানুষ’ত কখনো দেখিয়ে প্রেম করে আবার লুকিয়েও প্রেম করে। কিন্তু নিজের বেলায় হলে জায়েজ, অন্যের বেলায় হলে হারাম। স্থান- কাল-পাত্রভেদে মানুষ নিজের চরিত্রকে বদলায়। আহা ! মানুষ কতোরূপী। মানুষ কতো ধরণের প্রেম করে। কেউ কি প্রেমকে পেয়েছে নাকি অধিকাংশরা হারিয়েছে।

কবি জীবনানন্দ দাশ হাজার বছর ধরে পৃথিবীর পথে পথে হেঁটেছেন। তারপরও কি প্রেমকে স্পর্শ করতে পেরেছেন ? শুধু মুখোমুখি বসেছিলেন এবং কবি বল্লেন, ‘এতোদিন কোথায় ছিলেন’।

বনলতাসেন পাখির নীড়ের মতোন চোখ তুল্লেন। এইতো প্রেম। রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকে ‘ইভটিজিং’ করা’ত প্রেম চেতনা নয়। পরকীয়া’ত প্রেম হতে পারে না। এটা সেক্স বিনোদন। এটা পশুত্ব, বর্বরতা এবং ব্যভিচার। এসব’ত হারামজাদা আর হারামজাদীর ফ্যাশন-ভূষণ।

কবি রবীন্দ্রনাথ বলেন, ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, একলা চলোরে’।

এই একলা চলাতেই প্রেম। প্রেম’ত একা চলে। চলতে চলতে দুই হয়। জোর করে এক’কে দুই করা অসভ্যতা। প্রেম মানুষকে সভ্য করে। ধনী করে। জ্ঞানী করে। এবং কালচার্ড হতে সাহায্য করে। ওরে পাগল মন ‘এতো কথা বলিস্নেরে’।

সইতে পারছি না। নিন্দুকেরা এসব জানলে কতো কথা বলবেরে। বলুক, কি হবে ? আমি’ত নিন্দুকেরে ভালোবাসি সবার চেয়েরে। আরে তোর সাথে পারলুম না। (চলবে…)

লেখক : সম্পাদক, লোহাগাড়ানিউজ২৪ডটকম; প্রভাষক (বাংলা বিভাগ), আধুনগর ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা, লোহাগাড়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*