ব্রেকিং নিউজ
Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | চরমপন্থীরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে : আরএমপি কমিশনার

চরমপন্থীরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে : আরএমপি কমিশনার

file (9)

নিউজ ডেস্ক : রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহম্মদ শামসুদ্দিন বলেছেন, ‘হত্যার ধরন দেখে মনে হচ্ছে চরমপন্থীরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। খুনের মোটিভ এবং খুনিদের সনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।’ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হত্যার ঘটনায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

উল্লেখ্য, শনিবার সকাল ৮টার দিকে রাবি’র ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে বোয়ালিয়া থানার শালবাগান এলাকার বটতলা মোড় এলাকায় কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তার মরদেহ ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ নিয়ে যায়।

এদিকে, স্বামীর মৃত্যুর খবর শুনে আহাজারি করতে থাকেন নিহত শিক্ষক অধ্যাপক ড. এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকীর স্ত্রী হোসনে আরা শিলা।

হোসনে আরা সিলা জানান, ‘সকালে আমার স্বামী বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হন। হঠাৎ বাইরে থেকে কে যেনো খবর দিয়ে গেল, আমার স্বামীকে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে পালিয়েছে। আমি দৌড়ে বের হয়ে দেখি তিনি গলির রাস্তায় পড়ে আছেন। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা চিন্তা করার আগেই তিনি ডেড (মৃত)’।

তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ছেলে-মেয়ে এখনো অধ্যয়নরত। সন্তানদের এতিম করে তাকে এভাবে চলে যেতে হবে…।’

সরেজমিনে দেখা যায়, শাল বাগানে অবস্থিত ওই শিক্ষকের বাসা থেকে ৫০ গজ দূরে বটতলা মোড় এলাকার ‘কাংখিতা’ নামে এক বাসার দেওয়ালে রক্ত ছিটকে পড়ে আছে। রাস্তায় পড়ে থাকা রক্তকে বালু দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। জায়গাটি আইনী বেষ্টনী দিয়ে রাখা হয়েছে।’

‘কাংখিতা’ বাসার মালিক জাকিয়া সুলতানা বলেন, ‘ঘটনা আমরা কেউই দেখি নি। আমি সকালে বাড়ির বাইরে বের হলে স্যারের লাশ দেখতে পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেই।’

অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকীর গ্রামের বাড়ি রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায়। তিনি ২৬১ শাল বাগান (সপুরা) এলাকায় পৈতৃক বাড়িতে বাস করতেন। সক্রিয়ভাবে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নন বলে জানা গেছে। তার স্ত্রী হোসনে আরা শিলা গৃহবধূ। তিনি দুই সন্তানের জনক ছিলেন। ছেলে রিয়াসাত ইমতিয়াজ সৌরভ রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র। মেয়ে রেজোয়ানা হাসিন শতবী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্রী।

নিহতের ভাগ্নি সেন্টু প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বলেন, বাড়ি থেকে বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে শাল বাগান বটতলা মোড়ে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল চড়ে আসা দুই যুবক তার গলাতে কোপ দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে তিনি মাটিতে পড়ে যান এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।

ছেলে সৌরভ বলেন, আমার বাবা কারো শত্রু ছিলেন না। এভাবে তাকে কেনো চলে যেতে হবে? আমরা কী এর বিচার পাবো?

অধ্যাপক রেজাউল করিম ‘কোমলগান্ধ্যার’ নামে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত একটি সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক পত্রিকা সম্পাদনা করতেন। তিনি ভালো সেতার বাজাতেন এবং ‘সুন্দরম’ নামে একটি সাংস্কৃতিক বিষয়ক সংগঠনের উপদেষ্ঠা ছিলেন।

‘সুন্দরম’ সংগঠনের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্থাপন শাখার সেকশন অফিসার হাসন রাজা জানান, ‘ওনার সঙ্গে পরশু দিনও তার পত্রিকা বের করা নিয়ে বিভিন্ন কথা হয়েছে। এটা কোনো মৌলবাদীদের পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। কারণ তার কোনো শত্রু থাকতে পারে বলে মনে হয় না।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মো. শহীদুল্লাহ ও ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক জানান, ‘আমাদের বিভাগে যত ধরনের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড হতো সব তিনিই পরিচালনা করতেন। তবে কোনো ধরনের ব্লগ কিংবা ধর্ম নিয়ে লেখালেখি করতেন কিনা আমার জানা নেই।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মজিবুল হক আজাদ খান জানান, এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মামলা করার বিষয়ে উপাচার্যের সঙ্গে কথা হচ্ছে। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*