Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | চট্টগ্রাম বিভাগে পরিবেশ দূষণ করছে ৪৩৯টি ইটভাটা

চট্টগ্রাম বিভাগে পরিবেশ দূষণ করছে ৪৩৯টি ইটভাটা

image_printপ্রিন্ট করুন
(ফাইল ছবি)

(ফাইল ছবি)

নিউজ ডেক্স : ১২০ ফুটের ‘ফিক্সড চিমনি’র ৪৩৯টি ইটভাটা পরিবেশ দূষণ করছে চট্টগ্রাম বিভাগে। এসব ভাটায় নির্বিচারে বনজ কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে একটি ইটভাটারও বৈধতা বা অনুমোদন নেই।

এসব তথ্য জানান পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. বদরুল হুদা।

তিনি জানান, তিন পার্বত্য জেলা বাদে চট্টগ্রাম বিভাগে সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী ১ হাজার ৩৭৬টি ইটভাটা আছে। এর মধ্যে আধুনিক প্রযুক্তির ‘জিগজাগ’ ৯২৪টি, ‘হাইব্রিড হফম্যান’ ৪টি, ‘অটো টানেল’ ৯টি। উন্নত প্রযুক্তিতে রূপান্তরের হার ৬৯ শতাংশ। ২০১৬ সালে ছাড়পত্রবিহীন ইটভাটার বিরুদ্ধে এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রায় দুই কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ ধার্য করা হয়েছে। যেসব ভাটা এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রমের বাইরে ছিল সেগুলোতে শিগগির অভিযান চালানো হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী চট্টগ্রাম জেলায় মোট ইটভাটা আছে ৩৯০টি। এর মধ্যে ফিক্সড চিমনির ২৭৫টি, জিগজাগ ১০৯টি, হাইব্রিড হফম্যান ১টি ও অটো টানেল ৫টি। সনাতন পদ্ধতি থেকে উন্নত প্রযুক্তিতে রূপান্তরের হার ৩৩ শতাংশ। চট্টগ্রাম রাঙ্গুনিয়া, রাউজান, সাতকানিয়া, ফটিকছড়িতে ইটভাটা বেশি।

ইটভাটা উন্নত প্রযুক্তিতে রূপান্তরের হারে এগিয়ে আছে কুমিল্লা জেলা, ৯৯ শতাংশ। এরপর ফেনীর ৯৩ শতাংশ, নোয়াখালীর ৯২ শতাংশ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৯১ শতাংশ, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুরের ৬৮ শতাংশ। সবচেয়ে কম রূপান্তরের হার কক্সবাজারের, মাত্র ২৮ শতাংশ।

জেলা পর্যায়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ১৫১টি ইটভাটার মধ্যে ১৪টি, কুমিল্লার ৩১৮টির মধ্যে ৪টি, চাঁদপুরের ১২১টির মধ্যে ৩৯টি, নোয়াখালীর ১১৩টির মধ্যে ৯টি, লক্ষ্মীপুরের ৯৩টির মধ্যে ৩০টি, ফেনীর ১০৭টির মধ্যে ৮টি, কক্সবাজারের ৮৩টির মধ্যে ৬০টি ইটভাটা এখনো ফিক্সড চিমনি বা সনাতন পদ্ধতির। যেগুলোতে কাঠ ও কয়লা দুটোই ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৩৫টি, কুমিল্লায় ৩১১টি, চাঁদপুরে ৮২টি, নোয়াখালীতে ১০২টি, লক্ষ্মীপুরে ৬৩টি, ফেনীতে ৯৯টি, কক্সবাজারে ২৩টি জিগজাগ ইটভাটা রয়েছে। হাইব্রিড হফম্যান আছে কুমিল্লায় ৩টি এবং চট্টগ্রামে ১টি। চট্টগ্রামে ৫টি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নোয়াখালীতে ২টি করে অটো টানেল প্রযুক্তির ইটভাটা আছে।

এক প্রশ্নের উত্তরে সহকারী পরিচালক মো. বদরুল হুদা বলেন, পরিবেশ দূষণের ক্ষেত্রে কমলা-খ শ্রেণির প্রতিষ্ঠানের অন্যতম হচ্ছে ইটভাটা। পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক প্রযুক্তির ইটভাটা স্থাপন ও পরিচালনার জন্য ‘ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩’র সব বিধিবিধান অনুসরণ করে যাতে ইটভাটার ছাড়পত্র দেওয়া হয় সে লক্ষ্যে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি জানান, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র সাপেক্ষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ইটভাটার অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে অনেক ভাটা মালিক ছাড়পত্রের তোয়াক্কা না করেই ইটভাটা পরিচালনা করছেন। তারা কালো ধোঁয়া বাতাসে ছড়িয়ে দিয়ে, বন উজাড় করে পরিবেশ যেমন দূষিত করছে তেমনি নির্বিচারে জমির টপসয়েল নষ্ট করছে। এতে উর্বরা শক্তি নষ্ট হচ্ছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক মো. মকবুল হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৯ শতাংশ আধুনিক ইটভাটা রয়েছে। ২০১৪-১৫ সালে যা ছিল ৫৪ শতাংশ। প্রতি বছর গড়ে ৬-৭ শতাংশ ইটভাটা ফিক্সড চিমনি থেকে বেরিয়ে আসছে। নতুন ইটভাটাগুলো তো জিগজাগ ছাড়া ছাড়পত্র পাচ্ছে না।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সনাতন পদ্ধতির ইটভাটাগুলো পরিবেশ দূষণ করছে বেশি। তাই এসব ইটভাটার বিরুদ্ধে লাইসেন্সিং অথরিটি হিসেবে জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে নিয়মিত অভিযান চালানো যেতে পারে। চট্টগ্রামের পাহাড়-বনাঞ্চলের কারণে অনেক সনাতন পদ্ধতির ইটভাটাকে আমরা ছাড়পত্র দিতে পারছি না পরিবেশ অধিদপ্তরের আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে। তাই এসব ইটভাটা মালিক জিগজাগ পদ্ধতিতে ইটভাটা রূপান্তরের উদ্যোগ নিলেও পারছে না। এটা বাস্তবতা।  -বাংলানিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!