ব্রেকিং নিউজ
Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | চট্টগ্রামে ঈদ বাজারকে কেন্দ্র করে চলছে ব্যবসায়ী-প্রশাসন লুকোচুরি খেলা

চট্টগ্রামে ঈদ বাজারকে কেন্দ্র করে চলছে ব্যবসায়ী-প্রশাসন লুকোচুরি খেলা

file39

নিউজ ডেস্ক : চট্টগ্রামের ঈদ মার্কেটে অতিরিক্ত মুনাফা করা থেকে বিক্রেতাদের কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না। কাপড়ের বাজার স্থিতিশীল রাখতে জেলা প্রশাসনের কঠোর মনোভাব আর ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান কোনটাই কাজে আসছে না।

ঈদ বাজারকে কেন্দ্র করে চলছে ব্যবসায়ী-প্রশাসন লুকোচুরি খেলা। নগরীর অভিজাত শপিংমল থেকে শুরু করে ছোট মার্কেটগুলোতেও ক্রয় মূল্যের সঙ্গে বিক্রয় মূল্যের বিস্তর ফারাক। এ ছাড়া যে সব কাপড় বিক্রি করা হচ্ছে তার মান নিয়েও রয়েছে যথেষ্ট সন্দেহ।

ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে কয়েক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। নগরীর অভিজাত মার্কেট আফমি প্লাজার এক দোকানিতো রীতিমত নিজেই স্বীকার করেন রমজান মাসের বিক্রির টাকা দিয়ে সারা বছর চলতে হয়। রমজান মাসই তাঁর জন্য অতিরিক্ত মুনাফা লাভের মোক্ষম সুযোগ।

ঈদের কাপড়ের বাজার স্থিতিশীল রাখতে রোববার জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত নগরীর মিমি সুপার মার্কেটের ‘আকর্ষণ’ ও টেরীবাজারের ‘স্টার প্লাস’ নামে দুই দোকানকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছেন।

কাপড়ের মার্কেটগুলোতে অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেলা প্রশাসনের তিন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিলুর রহমান, অনুপমা দাস ও ইশ্তিয়াক আহ্মেদ। তাদের সহায়তাকারী হিসেবে রয়েছেন ক্যাবের সদরঘাট থানা শাখার সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌস ও তৌহিদুল ইসলাম এবং চট্টগ্রাম চেম্বার প্রতিনিধি মো. মোকাম্মেল হক খান।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিলুর রহমান বলেন, গত বুধবার হতে শুরু হওয়া এ অভিযানের প্রথমদিকে সবাইকে সতর্ক করা হয়। সে সময় মিমি সুপার মার্কেটের ‘ইয়ং লেডি’ ও টেরীবাজারের ‘স্টার প্লাসে’ অতি মুনাফা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থতার প্রমাণ পাওয়া গেলেও তাদের পরবর্তীতে এরকম না করার শর্তে শুধুমাত্র সতর্ক করে ছেড়ে দেয়া হয়।

রোববারের অভিযানের সময় টেরীবাজারের ওই দোকানটিতে (স্টার প্লাস) আবারও অতি মুনাফা অর্জনের প্রমাণ পাওয়া যায়। তাদের ৫,৩৭০ টাকা ক্রয়মূল্যের লেহেঙ্গা দ্বিগুনেরও বেশি ১১,৮৬০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। মুনাফার পরিমান প্রায় সাড়ে ৬হাজার টাকা।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থতা ও অতি মুনাফা অর্জনের প্রেক্ষিতে ওই দোকানকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমান আদালত।

মিমি সুপার মার্কেটের ইয়ং লেডিসহ অনেক দোকান প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রদর্শন করে। তবে কাপড়ের দোকান আকর্ষণে বিপুল মুনাফায় কাপড় বিক্রি করতে দেখা যায়। এ সময় দোকানটিতে ১৫হাজার ৯শ’ টাকা ক্রয়মূল্যের লেহেঙ্গা সাড়ে ৩৫হাজার টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। মুনাফা ক্রয়মূল্য থেকে ১৯ হাজার ৬শ’ টাকা বেশি।

এ দোকানের অধিকাংশ পণ্যেরই উচ্চমূল্য লক্ষ করা যায়। ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রদর্শনের ব্যর্থতা ও অতি মুনাফা অর্জনের প্রেক্ষিতে রেডিমেড কাপড়ের এই দোকানটিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেন।

হালিশহর ফইল্লাতলি বাজারে মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করায় একটি দোকানকে ৫হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির রাহমান সানি।

শহীদুল্লাহ নামের এক ক্রেতা জানান, মার্কেটগুলোতে যে হারে কাপড়ের দাম তাতে হতাশ হয়েছি। আমাদের মত স্বল্প আয়ের লোকজনের পক্ষে এতো দামে কাপড় ক্রয় করা সম্ভব নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*