ব্রেকিং নিউজ
Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | চকরিয়ায় লে. কর্নেল কাইছারের নামে স্মৃতিফলক করার দাবি

চকরিয়ায় লে. কর্নেল কাইছারের নামে স্মৃতিফলক করার দাবি

kayser20160225065912

নিউজ ডেস্ক : পিলখানা ট্রাজেডির ৭ বছর আজ। ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিডিআর (বিজিবি) দরবার হলে নারকীয় হত্যাযজ্ঞে সেনাবাহিনীর অন্য সদস্যদের সঙ্গে ওইদিন নিহত হন কক্সবাজারের চকরিয়া কৃতি সন্তান শহীদ লে. কর্নেল আবু মুছা মো. আইয়ুব কাইছার। পিলখানা ট্রাজেডির পর থেকে তার পরিবারের সদস্যরা কক্সবাজার বিমানবন্দরকে তার নামে নামকরণের পাশাপাশি চকরিয়া জনপদে লে. কর্নেল আইয়ুব কাইছারের স্মৃতি রক্ষার্থে তার নামে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সবুজবাগ-থানা সেন্টার তার নামে নামকরণ করার দাবি। কিন্তু তাদের এই দাবি বারবার উপেক্ষিত থাকছে বলে অভিযোগ করেছেন আইয়ুব কাইছারের বড়ভাই প্রকৌশলী মো. জহুরুল মওলা ও মেঝভাই মো. এনামুল হক।

জানা গেছে, লে. কর্নেল আবু মুছা মো. আইয়ুব কাইছারের জন্ম কক্সবাজার জেলার চকরিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভরামুহুরী এলাকায় সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে। ওই গ্রামের মরহুম মাওলানা আবদুল খালেকের ৮ ছেলেমেয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ। ১৯৬২ সালের ১৬ ডিসেম্বর তার জন্ম। লেখাপড়া শেষে ১৯৮৩ সালের ১০ জুন তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার্স কোরে যোগদান করেন। স্বীয় পেশায় অসাধারণ কর্মদক্ষতার কারনে মাত্র ৬ বছরে তিনি মেজর পদে পদোন্নতি পান। ২০০৩সালে তিনি লে.কর্নেল পদে অভিষিক্ত হন। চাকরি জীবনে তিনি শান্তি মিশনে কুয়েত, মালয়েশিয়া, সৌদিআরব, সিঙ্গাপুর, শ্রীলংকা ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রে ছিলেন। সর্বশেষ ২০০৯ সালে তিনি বিডিআর সদর দপ্তর পিলখানায় রক্ষানাবেক্ষন ও নির্মাণ শাখায় (একিউএমজি) পদে কর্মরত ছিলেন।

পারিবারিক সুত্র জানায়, বর্তমানে শহীদ লে.কর্ণেল আইয়ুব কাইছারের স্ত্রী মুশরাত জাহান পিনু তাদের দুই মেয়ে কারিশা মুশরাত ও জাফারিয়া কাইছারকে নিয়ে ঢাকায় সরকারিভাবে বরাদ্ধপ্রাপ্ত বাড়িতে বসবাস করে আসছেন।

লে. কর্নেল আইয়ুব কাইছারের পরিবার সদস্যরা জানান, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে তার নামে নামকরণের পাশাপাশি চকরিয়া জনপদে লে. কর্নেল আইয়ুব কাইছারের স্মৃতি রক্ষার্থে তার নামে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সবুজবাগ-থানা সেন্টার সড়কটি তার নামে নামকরণ করা হোক। সড়কটি চালু হলে পৌরসভার কয়েক হাজার বাসিন্দা যেমন চলাচলে সুফল পাবে, তেমনিভাবে কর্ণেল আইয়ুব কাইছারের একটি স্মৃতি অন্তত পক্ষে জন্মভুমিতে প্রতিষ্ঠা পাবে। এ জন্য সংশ্লিষ্টদের ইতিবাচক ভূমিকা প্রত্যাশা করেন পরিবারের সদস্যরা।

বিষয়টি প্রসঙ্গে চকরিয়া পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর চৌধুরী বলেন, জনরায়ে আমি মেয়র নির্বাচিত হলে সবুজবাগ-থানা সেন্টার সড়কটি প্রতিবন্ধকতা মুক্ত করতে উদ্যোগ নেবো।

তিনি আরো বলেন, লে. কর্নেল আইয়ুব কাইছারের মতো একজন বড় মাপের মানুষের স্মৃতি অবশ্যই নিজের জন্মভুমিতে থাকা দরকার। পরিবারের দাবি নয়, পৌরসভার একটি সৃজনশীল কাজ হিসেবে আমি সেই কাজটি করবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*