Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | ক্রসফায়ার থেকে দৃষ্টি ফেরানোর চেষ্টা

ক্রসফায়ার থেকে দৃষ্টি ফেরানোর চেষ্টা

fakrul20160619082615

নিউজ ডেস্ক : বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কুৎসামূলক আক্রমনের গুঢ় রহস্য হচ্ছে গত কয়েকদিন ধরে গণগ্রেফতার ও ক্রসফায়ার নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের যে ক্ষোভ জন্মেছে সেটিকে আড়াল করা।

তিনি মনে করেন, জঙ্গী দমনের নামে বিএনপিসহ বিরোধী দল ও সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে যে হিংসার পাশবিকতা ও দমন নীতি চালানো হয়েছে এবং ক্রসফায়ারে হত্যায় যে রহস্য দানা বেঁধেছে সেখান থেকে জনগণের দৃষ্টিকে অন্যত্র সরিয়ে দেয়া।

রোববার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে আক্রোশের কারণ হচ্ছে- শেখ হাসিনা হাজারো কুৎসা ও মিথ্যা প্রচারণা চালানোর পরও বাংলাদেশের রাজনীতিতে তারেক রহমান একটি মজবুত আসন করে নিয়েছেন, যা অন্য কেউ পারেনি। নানা অপপ্রচারের ধুম্রজাল সৃষ্টি করে সমস্ত হিংসা বর্বরাতা দিয়ে তারেক রহমানের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েও সরকার লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়ে পাগলের প্রলাপ বকে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, তারেক রহমান সম্পর্কে গত শনিবার প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অহংকার, ঔদ্ধত্য ও অপরিণামদর্শী। তাঁর এই বক্তব্য দেশের মানুষকে স্তম্ভিত করেছে। ওই বক্তব্য দেশের রাজনীতিতে বিচ্ছেদ, বিনাশ ও ব্যবধানের মাত্রা বাড়িয়ে তুলবে। রাজনৈতিক সঠিকতা অন্ধকারে হারিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্য শুধু অরুচিকর, কুৎসাপূর্ণ, উস্কানীমূলক ও ভয়ংকর প্রতিহিংসার বহি:প্রকাশই নয়, তা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর বিষাক্তভাষা প্রয়োগের মাধ্যমে স্বৈরতান্ত্রিক আক্রমনের এক নতুন দৃষ্টান্ত।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, হত্যার জন্য হুমকি ধামকি এটা বাংলাদেশের বর্তমান শাসকদলের বৈশিষ্ট্য। উন্নত গণতান্ত্রিক দেশে কোনক্রমেই সম্ভব নয়, এটি বর্তমানে কেবলমাত্র বাংলাদেশেই সম্ভব। লন্ডনে বসবাসকারী কোন ব্যক্তি যদি অন্য কাউকে হত্যার হুমকি দেয়, সেই ব্যক্তি কী আইনের হাত থেকে রেহাই পেতে পারে? বৃটেনের সরকারী দল কী বাংলাদেশের মতো রাষ্ট্রের প্রভু হয়ে বসে?

মির্জা ফখরুল বলেন, আইনের শাসনের সেই দেশে বাস করে কিভাবে একজন ব্যক্তি সেখানকার একজন এমপি ও তার মা-খালাকে হত্যার হুমকি প্রদান করবে? কারণ সেদেশে তো আওয়ামী শাসন চলে না, আইনের শাসন চলে।

বিএনপির মহাসচিব বলেন,  বাংলাদেশের মানুষ ক্রসফায়ারের হুমকির কথা শুনেছে, প্রধানমন্ত্রীর তর্জন-গর্জন শুনতে শুনতে এদেশের মানুষ ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে ক্রসফায়ারের হুমকি দেয়ার পর পুলিশ হত্যার লাইসেন্স পেয়ে যায়। পুলিশ প্রধানমন্ত্রীর ক্রসফায়ারের হুমকিকে সর্বোচ্চ ব্যবহার করে। যার শিকার হয়ে ব্যাংকার, ছাত্রসহ সাধারণ মানুষও ভয়াবহ পুলিশী নির্যাতনে পিষ্ট হচ্ছে। যেমন ব্যাংক কর্মকর্তা গোলাম রাব্বীর কথা আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে। সুতরাং মিথ্যার উৎপাদন ও অব্যাহত চর্চা একমাত্র আওয়ামী শাসকগোষ্ঠীর গৃহেই সম্ভব।

প্রসঙ্গত জাতীয় প্রেসক্লাবে শনিবার বিএফইউজে ও ডিইউজে একাংশের ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন- তারেক রহমান লন্ডনে বসে হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন, তার ভাগনি বৃটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকীকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। এছাড়া স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন শেখ রেহানাকেও নাকি হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*