ব্রেকিং নিউজ
Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | কৃষিতে নিজ দায়িত্বের প্রতি অনড় এক উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা স্বপন দাশ

কৃষিতে নিজ দায়িত্বের প্রতি অনড় এক উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা স্বপন দাশ

157

মো. নুরুল করিম আরমান, লামা : স্বপন কুমার দাশ, পিতার নাম মৃত সুশীল কান্তি দাশ, মাতার নাম শেফালি রানী দাশ। ১৯৫৮ সালের ২১ জুন চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা উপজেলার তরই কোড়া গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন তিনি। ১৯৭৪ সালে তরইকোড়া নয়নতারা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় বিভাগে এসএসসি পাশ করে ১৯৭৮-৭৯ সালের দিকে সিলেট হাদিম নগর কৃষি ট্রেনিং ইনিষ্টিটিউট থেকে কৃষি ডিপ্লোমা অর্জন করেন স্বপন কুমার দাশ। এর পর তিনি ১৯৮০ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যোগদান করেন কৃষি অধিদপ্তরের (বিএসএস) উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসাবে। পরে ১৯৮৬ সালের ৬ জানুয়ারী বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলায় যোগদানের পর লামা উপজেলায় যোগদান করেন তিনি।

দীর্ঘ চাকুরী জীবনে স্বপন কুমার দাশ লামায় সুনামের সাথে কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছেন। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসাবে উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়ন ব্লকে দায়িত্ব পালনকালে তার পরামর্শে কৃষাণ-কৃষানিরা কৃষি উৎপাদনে অনেক লাভবান হয়েছেন। প্রতিটি কৃষকের আঙ্গিনায় তার বিচরনে কৃষি সেক্টরকে লাভজনক ও আদর্শ কৃষিতে রুপ নিয়েছে। শুধু কৃষি নয়, পাশাপাশি প্রতিটি কৃষককে গবাদি পশু পালন ও মৎস্য চাষে উদ্ভুদ্ধসহ ফলদ-বনজ বাগান সৃজনে আগ্রহী করে তুলেন তিনি। চাকুরী জীবনে তার সফল কর্মকান্ডের কারনে ১৯৮৮ সালে ও ১৯৯২ সালে দু’বার রাষ্ট্রপ্রতি পদক লাভ করে কৃষি বিভাগের ভাবমূর্তি উজ্জল করেন স্বপন কুমার দাশ। এছাড়া তিনি ইঁদুর দমনে স্থানীয় কৃষকদের উদ্ভুদ্ধ করে সফলতা অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৮২-৮৪-৮৭ ও ৮৮ সালে বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্টত্বের গৌরব অর্জন করেন। চাকুরীর দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সমাজ সভ্যতায়ও রয়েছে তার প্রশংসনীয় প্রয়াস। মনুষত্য ও বিবেক বোধকে জাগ্রত করে তিনি প্রতিটি কৃষকের সন্তানদেরকে বিদ্যালয় মুখি করার অনুপ্রেরণা যোগিয়েছেন এবং পরিকল্পিত পরিবার গঠনের পরামর্শসহ বিভিন্ন বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহবান জানিয়ে আসছেন। গ্রামের অনেক ছাত্র-ছাত্রীকে বিনাশ্রমে অবসরকালীন সময়ে পাঠদান করানোর পাশাপশি সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চায় কাজ করেন তিনি।
২০০৮ সালে লামা উপজেলায় উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালন নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছিল। বিতর্কিত ওই সময়ও স্বপন কুমার দাশ তার দায়িত্বের প্রতি অবিচল থেকে স্থানীয়দের কাছে হয়ে উঠেন পুজনীয় ব্যক্তি। সেই ক্রান্তিকালে দৃড়তা ও নৈতিকতার সাথে লামা কৃষি বিভাগের ভাবমূর্তি পূন:উদ্ধারে কাজ করেছিলেন এই উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা। বর্তমানে তার দীর্ঘ চাকুরী জীবনের সততা ও নিষ্ঠা এবং যোগ্যতা বিবেচনায় কৃষি বিভাগ তাকে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদে পদোন্নতির অপেক্ষায়।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাশের বিষয়ে কথা হয় সাবেক ও বর্তমানে সিরাজগঞ্জ জেলার কৃষি অফিসার রোস্তম আলীর সাথে। তিনি জানান, লামায় যে ক’জন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আছেন, তার মধ্যে স্বপন কুমার দাশ অনেক বেশি পরিশ্রমি ও দায়িত্ববান। অপরদিকে লামা উপজেলা কৃষি অফিসার নুরে আলম বলেন, উপজেলায় বর্তমানে ২০ জন উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা রয়েছেন, সবাই ভালো কাজ করেন। তবে স্বপন দাশ অন্য রকম। দায়িত্ব পালনে তিনি খুবই আন্তরিক এবং ডিপার্মেন্ট তাকে ডিপেন্ড করতে পারে। যার ফলশ্রুতিতে গজালিয়া ইউনিয়ন সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হিসেবে কৃষি বিভাগ তাকে পদোন্নতি দিতে যাচ্ছে।

স্থানীয় কৃষক আব্দুস সালাম পুতু বলেন, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাশ’র উপদেশ মেনে তামাক চাষ ছেড়ে ধান, আলু, বাদাম ও বিভিন্ন সবজি চাষে আগ্রহী হয়ে আগের তুলনায় অনেক বেশি লাভবান হয়েছি। আরেক কৃষক ক্যাহ্লাপ্রু মার্মা জানান, স্বপন কুমার দাশ একজন কৃষি কর্মকর্তা নয়, বোধ বিবেচনায় তিনি বড় মাপের অভিভাবক। তার অনুপ্রেরণায় এলাকার অনেক কৃষক কৃষি কাজে সফল হয়েছেন।

স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধস্ত দেশে খাদ্য সংকট মোকাবেলায় কৃষি সেক্টরকে এগিয়ে নেয়ার খুবই প্রয়োজন। এমন উপলব্দি থেকে ৭০ দশকের শেষ দিকে আমি কৃষি ডিপ্লোমা করি- এমন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে স্বপন দাশ এ প্রতিনিধিকে বলেন, একজন মানুষ ও নাগরিক হিসেবে আমার যে টুকু কমিটমেন্ট রয়েছে; শুধু তাই করার চেষ্টা করছি। এর বাহিরে কিছু করতে পারিনি, কৃষকের মুখের হাঁসি যেন আমার অনাবিল আনন্দ। তিনি বলেন, একসময় ৮-১০ কিলোমিটার পথ পায়ে হেটে সাপ-বিচ্ছুর কামড় খেয়ে দায়িত্ব পালন করেছি। ওই সময় কৃষকের উন্নতি দেখে খুব আনন্দ পেতাম। তাই ক্লান্তি বোধ করিনি। বর্তমানে লামা উপজেলায় এক ঝাঁক তরুণ উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তাদের নিরলস প্রচেষ্টায় এই উপজেলার কৃষি সেক্টরে সুবাতাস বইছে। তিনি আরো বলেন, তামাক চাষ বন্ধ করা গেলে এই উপজেলায় উৎপাদিত কৃষি পন্য দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হবে। এখন প্রয়োজন কৃষি পন্য রক্ষণা-বেক্ষণের জন্য একটি হিমাগার স্থাপন করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*