Home | ব্রেকিং নিউজ | কলাউজানের জামাল-কাউছার দম্পতির স্বপ্ন কি পূরণ হবে না ?

কলাউজানের জামাল-কাউছার দম্পতির স্বপ্ন কি পূরণ হবে না ?

image_printপ্রিন্ট করুন

এলনিউজ২৪ডটকম : জামাল উদ্দিন (৩৬)। পেশায় দিনমজুর। লোহাগাড়া উপজেলার কলাউজান ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের আদারচর এলাকায় তার বাড়ি। পৈত্রিক সম্পত্তি বলতে রয়েছে শুধুমাত্র ৪ গন্ডার বসতভিটা। এর মধ্যে রয়েছে মাটির দেওয়াল ও টিনের ছাউনীযুক্ত বসতঘর। এতোদিন অন্ততঃ মাথা গুঁজার ঠাঁইটি ছিল।

কিন্তু সম্প্রতি বসতঘরের দেওয়ালের কয়েকটি স্থানে ভাঙ্গন সৃষ্টি ধরেছে। বৃষ্টি হলে টিনের ছিদ্র দিয়ে ঢুকে পানি। ফলে শান্তির নীড়টি পরিণত হল আতংকে। যে কোন সময় ধসে পড়তে পারে বসতঘরের দেওয়াল। হতে পারে প্রাণহানী। কোন উপায় না থাকায় আতংকের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন ওই বসতঘরে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সহজ-সরল দিনমজুর জামাল উদ্দিনের শ্রবণশক্তি কম। স্বাভাবিক আওয়াজে কথা বললে শুনতে পান না। বড় আওয়াজে কথা বলতে হয়। এ সময় তার স্ত্রী কাউছার আক্তার (৩২) জানান, তার স্বামী মানুষের ক্ষেতখামারে দিনমজুরী করেন। এতে যা অর্থ উপার্জন হয় তা দিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করছি। কিন্তু জরাজীর্ণ বসতঘরটি যে কোন মূহুর্তে ভেঙ্গে যেতে পারে এ ভয়ে নির্ঘুম রাত কাটান তিন। এছাড়া দেওয়ালের ফাটল দিয়ে প্রতিনিয়ত ঢুকছে বিষাক্ত পোকামাকড়। এ ভয়ে মশারীর ভিতর দিনমজুর স্বামী ও ছোট মেয়েটি ঘুমালেও তিনি জেগে থাকেন।

তবে জামাল-কাউছার দম্পতির সংসারে রয়েছে ৩ ছেলে ও ১ মেয়ে। এলাকার বিত্তবানদের সহযোগিতায় পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছে ৩ ছেলে। সবাই মেধাবী। বড় ছেলে নওশাদ জামাল তানভির (১)। দাখিলে ‘এ প্লাস’ প্রাপ্ত। বর্তমানে মাদ্রাসা হোস্টেলের থেকে আলিম প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত। অন্য দুই ছেলে সৌরভ হাসান আইনম (১৩) ও ইফতেখারুজ্জান হৃদয় (১০) কোরআন হিফজ করছে। আইনম এবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষায় ‘এ প্লাস’ পেয়েছিল। বসতঘর জরাজীর্ণ হওয়ায় তিন ছেলে এসে রাত্রিযাপনও করতে পারে না।

কাউছার আক্তার আক্ষেপ করে আরো জানান, অনেক জনপ্রতিনিধি ভোটের আগে ‘এটা দিবে ওটা দিবে’ বলে নির্বাচনী বৈতরণী পার করেন। কিন্তু ভোটের পরে কোন খবর রাখেন না। অনেক সাবলম্বী ব্যক্তি সরকারের বরাদ্দকৃত বসতঘর পেয়েছেন। কিন্তু অসহায় অনেকে সরকারের বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একটি বসতঘর বরাদ্দ পেলে পূরণ হয়ে যাবে আমাদের স্বপ্ন।

অসহায় জামাল-কাউছার দম্পতি চট্টগ্রাম- ১৫ (লোহাগাড়া-সাতকানিয়া) আসনের সংসদ সদস্য, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিত্তবানদের কাছে একটি বসতঘর বরাদ্দের আবেদন জানিয়েছেন। একটি বসতঘর হলে পূরণ হবে তাদের স্বপ্ন। কেউ কি তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসবেন ?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!