ব্রেকিং নিউজ
Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | কক্সবাজার পর্যটক বরণে প্রস্তুত

কক্সবাজার পর্যটক বরণে প্রস্তুত

Coxbaza

টানা কয়েক বছর ধরে ‘শনিরদশা’য় আটকে আছে পর্যটন ব্যবসা। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নানা প্রতিকূল পরিস্থিতি এ শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্টদের হাপিয়ে তুলেছে। কিন্তু এবারের ঈদকে উপলক্ষ করে দীর্ঘ এ মন্দ ভাব কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন কক্সবাজারের পর্যটন ব্যবসায়ীরা। তাদের প্রত্যাশা বর্ষা-রোদ্দর খেলায় সৈকতের আবহ দেখতে ঈদের ছুটিতে বিপুল সংখ্যক পর্যটক আগমন ঘটবে এবার। তাই অতিথি বরণের সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছেন তারা।

ইতিমধ্যে হোটেল-মোটেল জোনসহ পর্যটন এলাকার তারকা হোটেল, গেস্ট হাউস ও কটেজের কক্ষ ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ বুকিং হয়ে গেছে। আর আগত পর্যটকদের নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ ছাড়াও জেলা প্রশাসন থেকেও প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

কক্সবাজার হোটেল মালিক সমিতির সূত্র মতে, সৈকতকে ঘিরে হোটেল-মোটেল, গেস্ট হাউস, অ্যাপার্টমেন্ট ও কটেজ মিলে এখানে গড়ে উঠেছে পর্যটন সেবার প্রায় সাড়ে তিনশ প্রতিষ্ঠান। এ সকল প্রতিষ্ঠানে লাখো পর্যটক রাত্রি যাপনের সুযোগ পান। আর ঈদ ও বিশেষ ছুটিতে বিশ্বের দীর্ঘতম বালয়াড়ির তীরে আচঁড়েপড়া ঢেউয়ের নাচন দেখতে ভ্রমণ পিপাসুদের মিলন ঘটে কক্সবাজারে।

কিন্তু চলতি বছরের শুরু থেকে রাজনৈতিক দলের অবরোধসহ নানা কর্মসূচি কক্সবাজারকে পর্যটক শুন্য করে দেয়। অবরোধ উঠে যাবার পর পর্যটক সমাগম কিছুটা বাড়লেও পবিত্র রমজানে কক্সবাজার ছিল পর্যটক শুন্য। এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে পর্যটন সংশ্লিষ্টদের। অনেক হোটেল রেস্তোঁরা বন্ধ করে দিয়েছে মালিক কর্তৃপক্ষ। অনেকে চালু রাখলেও শ্রমিক ছাটাই করে কমানো হয় লোকবলের পরিসর। তবে এখন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দেখে অনেকে আগাম বুকিং দিয়েছে হোটেল কক্ষ।

তাই আগের ক্ষতি পুষিয়ে উঠার স্বপ্নে বিভোর ব্যবসায়ীরা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে সৈকত পাড় লোকে লোকারণ্য থাকবে পূর্ব অভিজ্ঞতা এমনই বলে। সে হিসেবে ঈদে আগত পর্যটক বরণে সাজানো হচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো। অনেকে পরিবর্তন করছেন পুরাতন আসবাব। দেয়ালে লাগানো হচ্ছে রংয়ের আচঁড়। ধোয়া মুছার কাজ চলছে রেস্তোঁরাগুলোতে।

তারকা হোটেল দ্য কক্স-টুডের ব্যবস্থাপক আবু তালেব জানান, গত বছর রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পর্যটকের সংখ্যা কম ছিল। কিন্তু এখন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসায় এবার ঈদ পরবর্তী সময়ে কিছুটা ভালো ব্যবসা হবে বলে আশা করছি। ইতিমধ্যে হোটেলের ৭০ শতাংশ রুম বুকিং হয়েছে।

এদিকে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন টুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের সহকারী পুলিশ সুপার জহিরুল ইসলাম ।

তিনি বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ট্যুরিস্ট পুলিশ সজাগ থাকবে। পর্যটন এলাকায় অতিরিক্ত ট্যুরিস্ট পুলিশ ও সাদা পোশাকে পুলিশের নজরদারি বাড়ানোর প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। তাই আগের মতো পর্যটকরা নিরাপদে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ভ্রমণ করতে পারবে বলে অভয় দেন পুলিশের এ কর্মকর্তা।

সৈকত পাড়ার সী নাইট গেস্ট হাউজের ম্যানেজার শফিকুর ইসলাম বলেন, পুরনো সময় পর্যালোচনায় দেখা যায় ঈদের ছুটিসহ বিশেষ ছুটিতে পর্যটকের ভীড় বাড়ে কক্সবাজারে। এবারও এর ব্যতিক্রম হবে না বলে আশা করা যায়। বেশ কিছু রুম অগ্রিম বুকিং হয়েছে। বৃষ্টি না থাকলে দুয়েক দিনের মধ্যেই পর্যটক পাওয়া যাবে এমনটাই প্রত্যাশা করছেন সব আবাসন ব্যবসায়ীরা। তাই পুরো হোটেলই পরিস্কার করে রাখা হয়েছে।

অপরদিকে অনেক তারকা হোটেল প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ভ্রমণ প্রত্যাশীরা। প্রচার মিডিয়ায় ৭০ ও ৮০ শতাংশ রুম বুকিং এর কথা বললেও অনেক হোটেল পুরোপুরি বুক্ড হয়েছে রুম খালি নেই বলে জানিয়ে দেয়া হচ্ছে। কিন্তু ভ্যাট ও সরকারি পাওনা ফাঁকি দিতে রুম এখনো খালি রয়েছে বলে ছলনার আশ্রয় গ্রহণ করা হচ্ছে বলে ধারণা করছেন তারা।

ঢাকার ব্যবসায়ী সেলিমুজ্জামান বলেন, বছরে ঈদের সময়টাই পরিবারকে একান্ত করে সময় দেয়ার সুযোগ হয়। এবার এ ছুটিটা কক্সবাজারে কাটাব বলে হোটেল ওশান প্যারাডাইসে রুম বুকিং দেয়ার জন্য ফোন দিয়েছিলাম। কিন্তু রিজার্ভেশন থেকে জানিয়ে দেয়া হয় ২০ ও ২১ জুলাইয়ের জন্য কোনো রুম খালি নেই। একই মানের অন্য হোটেলগুলোতেও যোগাযোগ করা হলে তারাও একদিন দিতে পারলে অন্যদিন দিতে না পারায় ছুটিটা দেশের বাইরে কাটানোর ব্যবস্থা করেছি।

সরেজমিন দেখা গেছে, হোটেল-মোটেল জোনের প্রায় সব হোটেল-মোটেল-গেস্ট হাউজে চলছে ধোঁয়া-মোছা ও রং করার কাজ। পর্যটন স্পট মহেশখালী, হিমছড়ি, ইনানী, দরিয়ানগর, বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্কসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটগুলো সাজছে নতুন করে। কক্সবাজার শহরের বার্মিজ মার্কেটগুলোতে নানা রকমের বাহারি বার্মিজ পণ্যের সমাহার নিয়ে দোকানিরা বসে আছেন পর্যটকদের আগমনের অপেক্ষায়।

কক্সবাজার হোটেল মালিক সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি লায়ন এম এন করিম জানান, ঈদ পরবর্তী পর্যটন মৌসুমকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে ২ শতাধিক হোটেল ও ২ শতাধিক গেস্ট হাউস ও কটেজ সকল প্রকার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এখন শুধুমাত্র পর্যটকদের স্বাগত জানানো সময়ের ব্যাপার।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবার ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে লাখো পর্যটকের আগমন ঘটবে। ইতিমধ্যে হোটেল মোটেল, গেস্ট হাউস ও কটেজগুলোর ৮০ শতাংশ রুম বুকিং হয়ে গেছে। বাকিগুলোও দু’এক দিনের মধ্যে বুকিং হয়ে যাবে প্রত্যাশা করেন তিনি।

এ হোটেল মালিক আরো বলেন, প্রতিবছর ঈদের সময় নানা ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এবার বৃষ্টির দিন হওয়াতে ইনডোর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে কক্সবাজারের পরিচিতি পৃথিবীময়। তাই এখানে আগত অতিথিদের সর্বোৎকৃষ্ট সেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদারকি করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে হোটেল-মোটেল জোনের রেস্তোঁরা ও আবাসিক হোটেলের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে যাছাইয়ের কাজ করা হয়েছে। এ তদারকি অব্যাহত থাকবে বলে উল্লেখ করেন জেলা প্রশাসক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*