ব্রেকিং নিউজ
Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | কক্সবাজারে জমছে না ঈদবাজার

কক্সবাজারে জমছে না ঈদবাজার

Somobay-Market-Pic20150709160310

আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি ঈদের। বাৎসরিক এ উৎসবে নতুন জামা-কাপড় কেনার রীতি দীর্ঘদিনের। সে ধারাবাহিকতায় এবারও প্রথম রমজানের পরের দিন থেকে বর্ণিলভাবে সাজানো হয়েছে কক্সবাজার জেলা সদর ও উপজেলা শহরের বিপণী বিতানগুলো। দেশি-বিদেশি নানা ডিজাইনের ছোট-বড়দের পোশাকের পশরা সাজানো হলেও এখনো পর্যন্ত জমে উঠেনি জেলার ঈদবাজার।

নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ঘরানার ক্রেতা সাধারণের অনুপস্থিতির কারণে এমনটি হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা। আর সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া বন্যায় বাড়ি-ঘর ভেঙে এবং মালামাল ভেসে গিয়ে কিংবা অন্যভাবে অকল্পনীয় ক্ষতি হয়েছে হাজার হাজার বাড়ি-ঘরের। আর বৈরী আবহাওয়ার কারণে বেশ কিছুদিন ধরে হাজার হাজার জেলে সাগরে যেতে না পারায় মৎস্য নির্ভর উপকূলের নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারে নিরব অভাব বাসা বেঁধেছে।

এসব কারণে বাজার বিমূখ হয়ে আছে নিম্ন আয়ের বিশাল জনগোষ্ঠী। তার উপর মাঝে মাঝে ভারী ও মাঝারি বৃষ্টি ভোগাচ্ছে ব্যবসায়ী ও বাজারে আসা স্বল্প সংখ্যক ক্রেতা সাধারণকে।

বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় গত মাসের শেষের দিক থেকে সাগরে মাছ ধরতে পারছেন না জেলেরা। এ কারণে জেলার ছোট-বড় প্রায় পাঁচ হাজার ট্রলার ঘাটে নোঙর করে রাখা হয়েছে। এসব ট্রলারে অন্তত ৭০ হাজার জেলে বেকার জীবন কাটাচ্ছেন বলে জানান কক্সবাজার জেলা ফিশিংবোট মালিক সমিতির সভাপতি মুজিবুর রহমান।

বৃহস্পতিবার সকালে শহরের বাঁকখালী নদীর ফিশারিঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, কয়েকশ ট্রলার নোঙর করা আছে। এফবি মদীনা ট্রলারের জেলে ছৈয়দ আলম জাগো নিউজকে জানান, আট দিন ধরে তিনি ঘাটে বসে আছেন।

আরেকটি ট্রলারের জেলে মাহফুজ আলম জানান, ট্রলার মালিকরাও জেলেদের সাগরে পাঠাতে রাজি হচ্ছেন না। ফলে জেলেদের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। এবার জেলেপল্লীতে ঈদের আনন্দ মাটি হবে।

এদিকে রমজানের ঈদকে সামনে রেখে বর্ণিল সাজে সাজানো হয় জেলা সদর ও উপজেলা শহরের বিপণী বিতানগুলো। প্রতিযোগিতা দিয়ে মার্কেটের সৌন্দর্য্য বর্ধন করে মার্কেট মালিকরা। সন্ধ্যার পর পর আলোকসজ্জার ঝলকানিতে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে।

শহরের কোরালরীপ প্লাজা ব্যবসায়ী সমিতি ক্রেতা আকৃষ্ট করতে ক্রয়ের বিপরীতে ছেড়েছে কুপণ। এতে মোটরসাইকেল, ফ্রিজসহ নানা ব্যবহার্য্য পণ্য দেয়ার কথা ঘোষণা করেছে। এরপরও উল্লেখযোগ্য হারে ক্রেতা আসছেন না বলে জানিয়েছেন আধুনিক কালেকশন পণ্যে দোকান মেসকোর পরিচালক শাহজাহান।

তিনিসহ আরো অনেক দোকানী জানিয়েছেন, যারা এখন মার্কেট করতে আসছেন তারা চাকরিজীবী পরিবার। কক্সবাজারে তাদের সংখ্যা সীমিত। এখানকার মার্কেটগুলো প্রবাসী ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের উপর নির্ভরশীল বেশি। সাম্প্রতিক বন্যায় সমতলের এ ক্যাটাগরির হাজার হাজার পরিবার ক্ষতির মুখে পড়েছে। অসংখ্য লোকজন হারিয়েছেন মাথা গোজার ঠাঁই। তাই প্রবাসীর পরিবার হলেও আগে মাথা উপর ছায়া তৈরি করতে চেষ্টা চালাচ্ছেন এসব পরিবার।

শহরের আরেক অভিজাত বিপনী বিতান এ ছালাম মার্কেট, পুরোনো ফজল মার্কেট, সমবায় সুপার মার্কেট, নিউ মার্কেট, আপন টাওয়ার মার্কেট, রাজস্থান, হকারমার্কেটসহ ছোট-বড় অন্যান্য মার্কেট গুলোও একই সমস্যা মোকাবেলা করছে।

তবে এসব মার্কেটের মাঝে এবার এ ছালাম মার্কেট, সমবায় সুপার মার্কেট বাজারঘাটার বন্যার জন্য সবচেয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছে। এ দু’মার্কেটে নারী পণ্য বেশি বিক্রি করা হয়। পাহাড় থেকে নেমে আসা পানির কারণে বাজারঘাটা, বড়বাজার ও আশপাশ পানি বন্দী থাকায় এসব এলাকায় নারী ছাড়াও সাধারণ লোকজন চলাচলও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।

ঈদগাঁও  বাজার নিউ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতি নেতা হাসান তারেক বলেন, বিগত কয়েক বছরে এমন দুর্গতিতে পড়েনি ব্যবসায়ীরা। পুরো বাজারের যে কয়েকটি মার্কেট রয়েছে সবার অবস্থা খারাপ।

তবে ব্যবসায়ীরা জানান, ক্রেতা সাধারণের চাহিদার প্রতি লক্ষ্য রেখে পণ্যের গুণগত মানের পণ্য নিয়ে পসরা সাজানো হয়েছে। ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রয় ও উত্তম ব্যবহারে ক্রেতা সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিবছরের মতো এবারও নানা আয়োজন করেছিলেন তারা।

তার মধ্যে রয়েছে, মার্কেটে ক্রেতাদের সুবিদার্থে পর্যাপ্ত নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সব মার্কেটের ব্যবসায়ীরা প্রত্যাশা করেছিলেন, এ বছর রাজনৈতিক অস্থিরতা না থাকায় ভালো বেচা কেনা হবে। কিন্তু বিধিবাম। রমজানের শুরুতেই বন্যা তাদের আশায় গুড়েবালি দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*