ব্রেকিং নিউজ
Home | লোহাগাড়ার সংবাদ | উন্নয়নে আলুরঘাট সেতুর অমিত সম্ভাবনা : সংযোগ সড়কের বেহাল দশায় থমকে আছে

উন্নয়নে আলুরঘাট সেতুর অমিত সম্ভাবনা : সংযোগ সড়কের বেহাল দশায় থমকে আছে

61

মোঃ জামাল উদ্দিন : লোহাগাড়া-সাতকানিয়ার বুক চিরে ডলুখাল প্রবাহিত। এ খালের উপর সম্প্রতি আলুরঘাট সেতু নির্মাণ হয়েছে। ফলে বান্দরবান থেকে সুদুর খুলনা-বরিশাল পর্যন্ত যোগাযোগের এক অমিত সম্ভাবনার দুয়ার উন্মেচিত হয়েছে। আলুরঘাট রাস্তা ও ব্রীজের সংযোগ রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হওয়ায় ব্রীজটি কোন কাজেই আসছেনা। ফলে পথচারীরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। যান চলাচলে বিঘœ সৃষ্টি হচ্ছে। আশার কথা স্থানীয় এমপি প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিন নদভী এলাকা পরিদর্শন করে অচিরেই এ সমস্যার সমাধান হবে জানিয়েছেন। স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা ও এমপির একান্ত সচিব এরফানুল জানিয়েছেন। তিনি আলুরঘাট ব্রীজ সন্নিহিত সোনাকানিয়ার সন্তান। এলাকাবাসীদের অসুবিধা ও দূর্ভোগ দুর্দশা তাকে মারাত্মকভাবে পীড়া দেয়। বর্ষা মৌসুম শুরুর আগে অন্ততঃ ব্রীজ থেকে গারাংগিয়া কুল পর্যন্ত সংযোগ রাস্তাটি সংস্কারে তিনি ব্রতি হবেন। আলুরঘাট সড়কটি লোহাগাড়া বটতলী মোটর ষ্টেশন থেকে শুরু হয়ে গারাংগিয়া সোনাকানিয়া- বড়হাতিয়ার সেনেরহাট হয়ে মছনঢালা পর্যন্ত বিস্তৃত। গারাংগিয়া ও আমিরাবাদের মধ্যবর্তী আলুরঘাটে একটি ব্রীজ নির্মাণের দাবী দীর্ঘদিনের।

62

বর্তমান সরকার আমলে ব্রীজটি নির্মিত হয়েছে। লোহাগাড়ার পূর্ব সীমান্তে বান্দরবান জেলা অবস্থিত। আবার পশ্চিম প্রান্তে বাঁশখালীর পাহাড়। বাঁশখালী থেকে ছনুয়া হয়ে সমুদ্র পথে খুলনা বরিশাল যাতায়াত করা যায়। বান্দরবানের পাহাড়ে আনারস, আম, কাঠাল, আদা, হলুদ উৎপন্ন হয়। লামা উপজেলার কেয়াজুপাড়া ও বান্দরবানের বিভিন্ন স্থান প্রতিনিয়ত পর্যটকদের হাতছানি দেয়। আর বাঁশখালীর অন্যতম সমুদ্র সৈকতসহ বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক ভীড় জমান। লোহাগাড়ার চুনতি অভয়ারণ্য পর্যটকদের ভ্রমণ পিপাসা নিবারণের জন্য দু’হাত বাড়িয়ে অপেক্ষা করে। শুধু অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য এ সম্ভাবনা থমকে দাড়ায়। লোহাগাড়া থেকে বান্দরবানের যোগাযোগ ব্যবস্থা সুগম। কিন্তু বাঁশখালীর অবস্থা সুগম নয়। মছনের দিঘী থেকে জলদি রাস্তার মুখ পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার পাহাড়ি রাস্তা সংস্কার করলে ঘুর পথে ২১ কিলোমিটার দূরত্ব কমে যায়। আলুরঘাট রাস্তাটি যদি বাঁশখালী পর্যন্ত বিস্তার ঘটানো যায় তাহলে সুদূর খুলনা-বরিশাল পর্যন্ত যোগাযোগের নতুন রুট সৃষ্টি হবে। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে শুধুমাত্র ১৯৭৩ সালে লোহাগাড়া-সাতকানিয়া আসনে একবারই আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। দীর্ঘ ৪২ বৎসর পর পুণরায় আওয়ামীলীগের টিকেটে প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিন নদভী এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। আলুরঘাট ব্রীজটি না থাকায় এলাকার কৃষক যথাসময়ে উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করতে পারেননি। শিক্ষার্থীরা অনেক সময় ডলু নদীতে পড়ে গিয়ে কাদাজলে জবুথবু ও একাকার হয়ে গিয়েছিলেন। তাদের দূর্ভোগের চোখের পানি ডলুর পানির সাথে মিশে গিয়েছিল। জনপ্রতিনিধিরা ভোট চাইতে এসে এ সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। নির্বাচনী বৈতরণী পার হয়েছেন। কিন্তু ব্রীজ নির্মিত হয়নি। এলাকাবাসীরা বলছেন আওয়ামীলীগ সরকার গণমানুষের কল্যাণে আত্মনিবেদিত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক ইচ্ছায় দেশে যোগাযোগে বিপ্লব সাধিত হয়েছে। হচ্ছে। তারা আশা করছেন আলুরঘাট রাস্তাটিও সংস্কার করা হবে। সম্ভাব্যতা যাচাই করে দুরকে নিকটে আনার প্রচেষ্টা চালানো হলে বাঁশখালী ও লোহাগাড়ার তেমন দূরত্ব থাকবে না। প্রধান সমস্যা আলুরঘাট ব্রীজ যেহেতু নির্মিত হয়েছে অন্য সমস্যার সমাধান সময়ের ব্যাপার মাত্র।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*