Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | উখিয়ায় কৃষি সরঞ্জাম বিতরণে অনিয়ম বঞ্চিত প্রকৃত চাষীরা

উখিয়ায় কৃষি সরঞ্জাম বিতরণে অনিয়ম বঞ্চিত প্রকৃত চাষীরা

oniom

কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া :  উখিয়ায় রোহিঙ্গাদের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় কৃষকদের পূর্নবাসন করার লক্ষ্যে কৃষি যন্ত্রপাতি ও উপকরণ বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম, দূর্নীতি, দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি ও বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নিয়মনীতি না মেনে যেনতেন ভাবে কোটি কোটি টাকার কৃষি সরঞ্জাম বিতরণ করতে গিয়ে এসব অনিয়মের চিত্র ফুটে উঠেছে। এতে প্রকৃত কৃষকগোষ্টি ও ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক পরিবার বঞ্চিত হয়েছে বলে জনপ্রতিনিধিরা ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। এসব অনিয়ম যাচাই-বাছাই ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবী তুলেছেন সচেতন মহল।গত রোববার ২৫ ফেব্রুয়ারি উখিয়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে আন্তর্জাতিক খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এএফও) এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে ইমারজেন্সি নিউট্রিশন এ্যান্ড ফুড সিকিউরিটি ইন্টারভেশন ফর পিপলস এফেক্টেড বাই দ্যা রিফুজি ক্রাইসিস কক্সবাজার এর সহযোগিতায় উখিয়া উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ১২টি কৃষক মাঠ স্কুলের ২২০ জন প্রান্তিক চাষীদের মাঝে বিনা মূল্যে ৩৬টি পাওয়ার টিলার, ৩৬টি স্যালু মেশিন, কৃষি উপকরণসহ ১০ প্রকারের বীজ বিতরণ করা হয়। এ সব কৃষি সরঞ্জাম বিতরণকে কেন্দ্র প্রকৃত কৃষকসহ সচেতন মহলের মাঝে চরম হতাশা ও ক্ষোভ পরিলক্ষিত হয়েছে।এ বিষয়ে উখিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) ছেনুয়ারা বেগম বলেছেন, রোহিঙ্গাদের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ উখিয়া উপজেলার কৃষকদের মাঝে কৃষি সরঞ্জাম বিতরণে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি পরিলক্ষিত হয়। যার ফলে প্রকৃত চাষীরা তাদের ন্যায্য প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হয়েছে। কৃষকদের নামের তালিকা তৈরিতে অনিয়ম হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ এবং প্রকৃত কৃষকরা বাদ পড়ে গেছে বলে তিনি এও বলেন। তিনি অারো বলেন সংসদ সদস্য উখিয়া উপজেলা চেয়ারম্যানসহ ইউপি চেয়ারম্যানদের নিয়ে সমন্বয় করে তালিকা করতে বললেও তা করা হয়নি। একজন উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে অামি কৃষি উপকরণ বিতরণে উপেক্ষিত হয়েছি। তাই এ কৃষি কর্মকর্তার অপসারণ দাবী জানাচ্ছি।কৃষি সরঞ্জাম বিতরণে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে, হলদিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সরকারের মন্ত্রী পরিষদ সচিবের ছোট ভাই অধ্যক্ষ শাহ আলম বলেন, জনসংখ্যা অনুপাতে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় কৃষি সরঞ্জাম বিতরণে বৈষম্য করা হয়েছে। হলদিয়াপালং ও জালিয়াপালং ইউনিয়ন আয়তন ও জনসংখ্যার দিক দিয়ে বড় হলেও তাঁর ইউনিয়নে শুধুমাত্র একটি পাওয়ার টিলার দেওয়া হয়। কিন্তু পার্শ্ববর্তী রত্নাপালং ইউনিয়নের আয়তন ও জনসংখ্যার দিক দিয়ে ছোট হলেও সেখানে ২টি পাওয়ার টিলার দেওয়া হয়েছে। এভাবে পুরো উপজেলায় স্বজনপ্রীতি, অনিয়মের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ প্রকৃত চাষীরা বঞ্চিত হয়েছে।হলদিয়াপালং ইউনিয়নের পাগলির বিল গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ আলী জানান, আমি একজন প্রকৃত কৃষক হয়ে এ পর্যন্ত কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কোন ধরণের সরকারি সুযোগ সুবিধা পায়নি। তার দাবী কৃষি অফিস চাইলে সে আরো ভালো ভাবে চাষাবাদে উন্নতি করতে পারবে।এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উখিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম বলেন, উপজেলার মাসিক সমন্বয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উখিয়া-টেকনাফের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি’র নির্দেশে ইউ.পি চেয়ারম্যানরা নতুন কৃষি মাঠ স্কুলের নামের তালিকা দিয়েছে। তালিকা অনুযায়ী ১২টি কৃষি মাঠ স্কুলের জন্য এসব কৃষি সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়। তবে রোহিঙ্গাদের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ জোন হিসেবে রাজাপালং ও পালংখালী ইউনিয়নে আনুপাতিক হারে বেশি বিতরণ করা হয়।এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে, উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, উখিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে মন্ত্রণালয় কর্তৃক কৃষকদের জন্য বরাদ্ধকৃত কৃষি উপকরণসহ কোটি কোটি টাকার সহায়তা প্রকল্পে অনিয়ম, দূর্নীতি হচ্ছে। তিনি এসব অনিয়ম বন্ধের ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরী বলে মনে করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*