ব্রেকিং নিউজ
Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | ঈদকে সামনে নিয়ে নতুন সাজে সাজছে সৈকত নগরী কক্সবাজার

ঈদকে সামনে নিয়ে নতুন সাজে সাজছে সৈকত নগরী কক্সবাজার

Cox-Porjoton20150923095005

কোরবানির ঈদকে সামনে নিয়ে নতুন সাজে সাজছে সৈকত নগরী কক্সবাজার। বৃষ্টির আবহের মাঝেও রঙয়ের আঁচড় লাগিয়ে ঝঁকঝঁকে করা হচ্ছে হোটেল মোটেলগুলো। ফুটপাত ও শহরের অলিগলি কাদামুক্ত করে নেয়া হচ্ছে পর্যটক বরণের প্রস্তুতি। আর সাগরের ঢেউয়ের সঙ্গে ভ্রমণের উচ্ছ্বাস নির্বিঘ্নের লক্ষ্যে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৈরি রয়েছেন পর্যটন পুলিশ ও জেলা প্রশাসন।

সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, ঈদের ছুটিতে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক পর্যটকের আগমন ঘটে কক্সবাজারে। আর এবার কোরবানির ঈদ পড়েছে বিশ্ব পর্যটন দিবসকে সামনে নিয়ে। প্রতিবার এ দিবসকে উপলক্ষ করে সৈকতের বুকে এমনিতে ভ্রমণ পিপাসুদের আনাগোনা বাড়ে। তাই ঈদ ও পর্যটন দিবস দুয়ের সমন্বয়ে এবার পর্যটক আগমণও অন্য বছরের হিসাব পাল্টে দেবে এমনই বিশ্বাস পর্যটন সংশ্লিষ্টদের।

এসব পরিসংখ্যান মাথায় নিয়ে ইতোমধ্যে সৈকত পারের চার শতাধিক হোটেল-মোটেল, গেস্ট ও রেস্ট হাউসগুলো প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। আর অধিকাংশ আবাসিক হোটেল কক্ষ ২৭ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। তাই এবারের পর্যটন মৌসুম আশানুরূপ ব্যবসা দিয়ে শুরু হবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

কিন্তু দুটি কারণে শঙ্কাও পিছু ছাড়ছে না তাদের। শহরের নতুন চাঁদগাও থানার মোড় হতে দক্ষিণ চট্টগ্রামের দেড়শ কিলোমিটার সড়কের সিংহভাগ খানা-খন্দকে ভরপুর হওয়ায় সহজ যাতায়ত নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। এর সঙ্গে যোগ দিয়েছে থেমে থেমে বর্ষণ। আশ্বিনের এ দিনেও থেকে থেকে ভারি বৃষ্টিপাত ভঙ্গুর রাস্তায় কাদার সৃষ্টি করছে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হয়ে বাড়ছে যানজট ও ভোগান্তি। এ অবস্থা চলতে থাকলে কক্সবাজারে আশানুরূপ পর্যটক নাও আসতে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।

কলাতলীর মোহাম্মদীয়া গেস্ট হাউসের ব্যবস্থাপক শফিকুর রহমান বলেন, ঈদকে সামনে রেখে পর্যটন শহরের হোটেল-মোটেল, গেস্ট হাউজসহ পর্যটন স্পটগুলোর সাজানো হচ্ছে। অনেকে পুরোনো আসবাব পাল্টিয়ে বসাচ্ছেন সময়োপযোগী আসবাবপত্র। বৃষ্টি ও অন্য কারণে মরিচা কিংবা উঠে যাওয়া আস্তরণ মুছতে লাগানো হচ্ছে তুলির আঁচড়। পাশাপাশি আকর্ষণীয় করা হচ্ছে রেস্তোরাঁগুলোও।

সরেজমিন হোটেল মোটেল জোন এলাকা পরির্দশনে দেখা গেছে, হোটেল-মোটেল জোনের প্রায় সব হোটেল-মোটেল-গেস্ট হাউসে চলছে ধোয়া-মোছা ও রং করার কাজ। পর্যটন স্পট মহেশখালী, হিমছড়ি, ইনানী, দরিয়ানগর, বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটগুলো সাজছে নতুনভাবে। কক্সবাজার শহরের বার্মিজ মার্কেটগুলোতে নানা রকমের বাহারি বার্মিজ পণ্যের সমাহারে ভরে তোলা হচ্ছে তাক।

এসময় হোটেল-মোটেল সংশ্লিষ্টরা বলেন, গত কয়েক বছর রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পর্যটকের সংখ্যা কম ছিল। কিন্তু এখন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসায় এবার ঈদের পরে পর্যটন মৌসুমের যাত্রায় হোটেলগুলো ভালো ব্যবসা করতে পারে। ইতিমধ্যে হোটেলের ৫০-৮০ শতাংশ রুম বুকিং হয়েছে।

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল-গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার জানান, ঈদের পরে পর্যটন মৌসুমকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে দুই শতাধিক হোটেল ও গেস্ট হাউস ও কটেজ সব প্রকার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এখন পর্যটকদের স্বাগত জানানোর অপেক্ষায় রয়েছে পর্যটন শিল্প নির্ভর লোকজন।

তিনি আরো জানান, যদি ভারি বৃষ্টিপাত না হয় তাহলে কক্সবাজারে প্রায় ২ লক্ষাধিক পর্যটকের আগমণ ঘটবে। ইতোমধ্যে হোটেল-মোটেল-গেস্ট হাউস ও কটেজগুলোর রুম বুকিং চলছে।

কক্সবাজার ট্যুরিষ্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলমগীর বলেন, পর্যটন স্পটে পর্যটকরা ভগবানের মতো। তাই ভ্রমন পিপাসুদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পূর্বের চেয়ে আরো সতর্ক হয়ে মাঠে কাজ করার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। সৈকতের ডায়বেটিক পয়েন্ট থেকে ইনানী পর্যন্ত কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে টহল দেবে ট্যুরিষ্ট পুলিশের ১৫৮ সদস্য। লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে ২৪ ঘন্টা নিরাপত্তার জন্য প্রস্তুত রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।

তিনি আরো জানান, কোরবানির ঈদ থেকে প্রায় পক্ষকাল নিয়মিতের পাশাপাশি বাড়তি নিরাপত্তা রাখা হবে। যেকোন ধরণের সহযোগিতার জন্য খোলা হবে হেল্প ডেক্স। এখন থেকে চালু হয়েছে ওয়াচ টাওয়ার।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জেলা পুলিশও সজাগ থাকবে। পর্যটন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও সাদা পোশাকে পুলিশের নজরদারী বাড়ানো হবে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ আলী হোসেন বলেন, পর্যটক হয়রানি বন্ধে হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরাঁয় মূল্য তালিকা টাঙ্গানোর নির্দেশসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বৃহৎ পরিকল্পনায় সরকার ২০১৬ সালকে পর্যটন বর্ষ ঘোষণা করেছে। তাই এবারের বিশ্ব পর্যটন দিবস ও ঈদুল আজহার ছুটি পর্যটন সংশ্লিষ্টদের জন্য অতি গুরুত্ব পূর্ণ। পূর্বের সময়ের চেয়ে এবারে পর্যটক সেবার প্রতি সবার বাড়তি নজর দেয়া প্রয়োজন। এসব ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবহিত করা হয়েছে। এর ব্যত্যয় ঘটলে দ্রুত ব্যবস্থা নিবে প্রশাসন।

তিনি আরো বলেন, পর্যটনের জন্য আলাদা পুলিশ বিভাগ কাজ শুরু করলেও এদের পাশাপাশি র্যাব, বিজিবিসহ আইনপ্রয়োগকারি সংস্থার বিভিন্ন বিভাগ টহল জোরদার করা হবে। তাই  পর্যটকরা নিরাপদে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতসহ পর্যটন স্পটগুলোতে ভ্রমণ করতে পারবেন বলে আশা করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*