Home | লোহাগাড়ার সংবাদ | আবুল বশর সওদাগরের সফলতা : মাছ চাষে কোটিপতি

আবুল বশর সওদাগরের সফলতা : মাছ চাষে কোটিপতি

26

মোঃ জামাল উদ্দিন : লোহাগাড়ার আমিরাবাদ মল্লিক ছোবহান ৬নং ওয়ার্ডের মৃত আদম মিয়ার পুত্র আবুল বশর সওদাগর (৫২)। যিনি মৎস্য চাষ করে কোটি টাকার মালিক। অদ্যবসায়, পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাস তাকে সফলতার এ উচ্চ শিখরে নিয়ে এসেছে। তার সফলতার গল্প অত্যন্ত চমৎকার। সত্তরের দশকের শেষের দিকে তিনি একজন খুচরা পান বিক্রেতার কর্মচারী ছিলেন। বছর দুয়েকের মধ্যে তিনি নিজে পানের ব্যবসা শুরু করেন। ফাঁকে ফাঁকে ছোটবেলায় তার লালিত স্বপ্ন মাছ চাষ তাকে তাড়িত করে। তিনি সামান্য পুঁজিতে আমিরাবাদ পুরাতন বিওসি এলাকায় একটি মাছের প্রকল্প শুরু করেন। সেখানে অভাবনীয় সফলতা আসে। ১৯৮০-৮১ সালে তিনি খুচরা পান ব্যবসার সাথে মৎস্য খামার শুরু করেন। সেখানে আশানুরোপ লাভ হওয়ায় তাকে তার পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ২০০০ সাল থেকে তিনি লোহাগাড়ার পুটিবিলা মাতইল্যা বর দিঘীসহ গৌড়স্থান রাজবাড়ি সংলগ্ন ২৫ একরের মোট ১২টি পুকুর ১০ বছরের জন্য লিজ গ্রহণ করেন। পুরাতন বিওসির প্রকল্প বাদ দিয়ে তিনি এসব পুকুরে মিশ্র মাছের চাষ শুরু করেন। যেখানে নাইলটিকা, পাঙ্গাস, কার্প জাতীয় সাদা মাছের মিশ্রণ রয়েছে। ছোট বেলা থেকে তিনি মাছের প্রতি অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। জাল এবং বরশি নিয়ে মাছ ধরতেন। বিভিন্ন সময়ে বরশি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে ৮-১০ বার প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। প্রতিবারে তিনি ৫ লাখ টাকা পুরস্কার পেয়েছেন। এসব টাকাও তিনি এ প্রকল্পে মূলধন হিসাবে বিনিয়োগ করেন। ২০০৩- ০৪ এর দিকে এসব প্রকল্পের লাভের মুখ দেখেন তিনি। ২০০৪- ০৬ এর দিকে লাভের মুখ দেখার পর হঠাৎ করে মাছের খাদ্যের দাম বেড়ে যায়। তখন তিনি আশানুরূপ লাভ করতে পারেননি। তবে পরিশ্রম, মেধা ও একাগ্রতায় তাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। তিনি হতদ্বম হননি। উদম্য উৎসাহে এ ব্যবসা চালিয়ে যেতে থাকেন। বর্তমানে তার প্রকল্পে ১ কোটি টাকার অধিক মূল্যের মাছ রয়েছে। মাছ চাষের পাশাপাশি পুকুর পাড় ও সংলগ্ন জমিতে পেঁপে বাগান গড়ে তুলেন। সেখানে অন্যান্য সাথী ফসলও রয়েছে। মাছ চাষ কিংবা পেঁপে বাগান করতে তার কোন প্রশিক্ষণ নেই। সম্প্রতি মৎস্য সপ্তাহ শুরু হয়েছে। কোন মৎস্য কর্মকর্তা এ যাবত তার কোন খবর নেননি। কিংবা তিনিও জানেন না মৎস্য সপ্তাহে সরকার কি কি কর্মসূচী গ্রহণ করেছেন। তবে পেঁপে চাষের খবর পেয়ে স্থানীয় কৃষি বিভাগ ও দোহাজারী থেকে কৃষি বিভাগের লোকজন তদারকির জন্য আসেন। মাছ পাগল বশর সওদাগর সারাদিন-রাত প্রকল্পে অতিবাহিত করেন। তার প্রকল্পটি পাহাড়ি ঢালু এলাকায় অবস্থিত। আপনি যদি লোহাগাড়া থেকে কেয়াজুপাড়াগামী গড়িতে উঠেন ঐতিহাসিক গৌড়স্থান রাজবাড়ি সংলগ্ন স্থানে তার প্রকল্পের অবস্থান। বিগত এক মাস ধরে লাগাদার বৃষ্টি ও সম্প্রতি পাহাড়ী ঢল ও বন্যায় তার প্রকল্প ডুবে যায়। পেঁপে বাগানে পানি স্থিত থাকায় ৬ হাজারের মধ্যে ৪ হাজার পেঁপে গাছ ফলসহ বিনষ্ট হয়ে গেছে। গাছের পাতা বিবর্ণ হয়ে গেছে। গোড়া পঁচে যাওয়ায় গাছগুলো মাটির সাথে মিশে গেছে। তবুও বশর সওদাগর আশার হাল ছাড়েননি। প্রকল্পের ১০ লাখ টাকার উপরে মাছ ভেসে গেছে। তবুও প্রকল্পে কোটি টাকার মাছ থাকায় বশর সওদাগরের মুখে হাসি বিলীন হয়নি। তিনি ধমে যাননি। আবার তিনি ঘুরে দাড়াতে চান। তার প্রকল্পে জনৈক বন্ধুর কিছু টাকা বিনিয়োগ রয়েছে বলে জানান তিনি। তবে ব্যাংকের কোন ঋণ নাই। বশর সওদাগর অত্যন্ত পরিশ্রমি মানুষ। সংবাদপত্রের উপর তার অগাধ বিশ্বাস। তিনি মনে করেন সংবাদপত্রে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে তার পাশে সরকারী সহযোগিতা নিয়ে সংশ্লিষ্টরা এগিয়ে আসবেন। প্রধানমন্ত্রী তাকে পুরস্কৃত করবেন। অথবা মাটি ও মানুষ খ্যাত কৃষি ও কৃষকের বন্ধ শাইয়েখ সিরাজ তার প্রকল্পে ছুঁটে আসবেন। মাছে ভাতে বাঙ্গালী এ দেশে অসংখ্য আবুল বশর সওদাগর রয়েছেন। যারা পৃষ্টপোষকতা ফেলে এ দেশের অর্থনীতির ভিড় মজবুত করতে পারবেন। বশর সওদাগর এলাকার অতি পরিচিত প্রিয় মুখ। তার সংগ্রামে সরকার এগিয়ে আসলে মৎস্য চাষে নতুন দিগন্তের উন্মোচন হবে এলাকার অসংখ্য অধিবাসী এমন অভিমত রেখেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*