ব্রেকিং নিউজ
Home | উন্মুক্ত পাতা | আজকের অসময়ের অতিথি ডা: মোহাম্মদ লোকমান

আজকের অসময়ের অতিথি ডা: মোহাম্মদ লোকমান

240

নুরুল ইসলাম ডালিম : ডা: মোহাম্মদ লোকমান । লোহাগাড়ার কৃতি সন্তান। সুযোগ থাকা সত্ত্বেও এলাকার মানুষের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য তিনি অনেক কিছু ত্যাগ করেছেন। এলাকার মাটি ও মানুষকে ভালবেসে কখনও স্বল্প ফিতে কখনও বা বিনাফিতে তিনি এই সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। কথা বলছিলাম লোহাগাড়া জেনারেল হাসপাতালের নিজ চেম্বারে আজকের অসময়ের অতিথি ডা: মোহাম্মদ লোকমান এর সাথে এক রাত্রে। আমার বড় ছেলে এবিএম গোলাম রব্বানীর একটু অসুখ ছিল। তার মা আবার হোমিওর ভক্ত। কারণ তার মতে এমবিবিএস ডাক্তারগন এ পরীক্ষা ও পরীক্ষা নামে যে খরচ আর সময় নষ্ট করে তাতে হোমিও ভাল। হোমিও ডাক্তারও বললেন,তার জন্ডিসের লক্ষণ। তাই রোগ নির্নয় ছাড়া অনুমানের ভিত্তিতেই চলছে চিকিৎসা। একদিন ভাবলাম, জন্ডিসের লক্ষণ আর রক্ত পরীক্ষার রির্পোট যদি সত্যি হয় তাহলে চিকিৎসাটা জোরালো হতো। কারণ সঠিক রোগ নির্নয় হলে হোমিও কিন্তু ভাল কাজ করে। তাই ডা:মোহাম্মদ লোকমান সাহেবের চেম্বারে এলাম। ওনি ছিলেন না। ফোন করলাম। তথ্য প্রযুক্তিতে অভিজ্ঞ ডা: লোকমানের সাথে ফেসবুকে লাইক ,কমেন্টে অনেক বার বিরাগভাজন হয়েছি! তাই একটু নিজের পরিচয় দিতেই তিনি বললেন, আপনি একটু বসুন। আধা ঘন্টা পরেই আসছি। শুধু আপনার জন্য। আমি অবাক হলাম! ডা: এর সময় অনেক মূল্যবান। চেম্বার ছেড়ে আজকের মতো চলে গেছেন, অথচ একজন রোগীর জন্য কল করার সাথে সাথে প্রতিশ্রুতি পেলাম আবার চেম্বারে আসার। আমি ডা: লোকমান সাহেবের বিনয়ী আচরণ দেখে মুগ্ধ হলাম। এ সময়ে ক’জন ডাক্তারকে আপনি এমন পাবেন ?

তিনি ঠিক সময়ে এলেন। খুবই আন্তরিকভাবে ওনার রোগীকে দেখলেন । জন্ডিসের বিলরুবিন মাত্রা পরীক্ষার জন্য একটা ছোট্ট টেস্ট দিলেন। অল্প পরিমান ওষুধ দিলেন। দু’জনের একান্ত আলাপচারিতায় লোহাগাড়ার প্রাইভেট হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা ও ডাক্তারদের সম্পর্কে বহু আলোচনা উঠে আসলো । ডাক্তার লোকমান আক্ষেপ করে বললেন, শুধু প্রেসক্রিপশন দিয়ে রোগীদের রোগ সারবে না। রোগীদের সাথে ডাক্তারদের আচরণে আর সময় দিয়ে আরো মানবিক হতে হবে। রোগীর প্রতি ডাক্তরের হৃদ্দতা বাড়াতে হবে । তিনি বলেন, অনেক ডাক্তার আছেন, তার কাছে আসা রোগী যদি পূর্বে কোন ডাক্তরের কাছে চিকিৎসা করেছে শুনে তাহলে ঐ ডাক্তার পূর্বে কি ওষধ প্রেসক্রাইব করেছে তা আর দেখতেও চা্য় না। দেখলেও এমন মন্তব্য করবে যাতে ঐ রোগীর মানসিক অবস্থা একেবারে নষ্ট হয়ে যায়। যাতে রোগী মনে করে, যে পূর্বের ডাক্তার ভুল চিকিৎসা করেছে, এখন সে ঠিক জায়গায় এসেছে। আর মনে মনে রোগী পূর্বের ঐ ডাক্তারের চৌদ্দ গোষ্ঠী উদ্ধার করে। আর বর্তমান ডাক্তারও জাহির করে যে, সেই সেরা ডাক্তার। এভাবে রোগীর পকেট কাটা হবে রোগ সারবে না, রোগীও ভাল হবে না। তাই তিনি ডাক্তারদের প্রতি অনুরোধ করেন, রোগীর পূর্বের প্রেসক্রিপশন দেখে চিকিৎসার ধারাবাহিকতা যদি রক্ষা করা যায়, তাহলে রোগী দ্রুত আরোগ্য লাভ করবে।

সময় কখন যে গড়িয়ে রাত আরো বেড়ে গেল তা মনেই ছিলনা। সেদিনের মতো বিদায় নিয়ে ফিরলাম বটে, কিন্তু ডাক্তার লোকমানের এ কথা এ লোহাগাড়ার ক’জন ডাক্তারই ভাবে? এ প্রশ্নই শুধু ঘুরপাক খাচ্ছিল। জানিনা তাঁর এ কথা লোহাগাড়ার ডাক্তারদের সামন্য হলেও এ মানব সেবার প্রতি বোধদয় হয় কি না। প্রত্যাশা রইল শুধু টাকার জন্য কসাই নামের ডাক্তার নয়, ডাক্তরগন আসলে চিকিৎসা সেবার মাধ্যমে মানুষকে বাঁচানোর স্রষ্টার বিশেষ বার্তা বহন করেন তা যেন বাস্তবে প্রতিফলিত হয়।

লেখক : শিক্ষক, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*