ব্রেকিং নিউজ
Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে– চীনা উপ-প্রধানমন্ত্রী

অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে– চীনা উপ-প্রধানমন্ত্রী

download (18)

ইরফান এইচ সায়েম : বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে উল্লেখ করে চীনের উপ- প্রধানমন্ত্রী লিও ইয়েনতোং বলেছেন, আমরা খুবই আনন্দিত যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ধারাবাহিকভাবে ৬ শতাংশ রয়েছে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের সুবাধে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্য আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশ হওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশের মানুষ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সোমবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে এক বক্তৃতায় এ কথা বলেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সৈয়দ রেজাউর রহমান।

চীন-বাংলাদেশের মধ্যে দুই হাজারের বছরের সম্পর্কের কথা তুলে ধরে লিও ইয়েনতোং বলেন, দুদেশের এই ঐতিহাসিক সম্পর্ক আরো সুসংহত করা উচিৎ। বাস্তবতা থেকে প্রমাণিত-আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি যাই হোক না কেন চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে মৈত্রী, আস্থা ও সহযোগিতাই আসল বিষয়। দুই দেশের সম্পর্কের ঐতিহাসিক প্রেক্ষিত তুলে ধরে চীনা উপ-প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণাঞ্চল ‘রেশম পথ’ এবং ‘সামুদ্রিক রেশম পথ’ দিয়ে আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিনিময় শুরু হয়। ‘ফা হিয়েন, হিউয়েন সাং, ই চিং বৌদ্ধ ধর্মের বাণী নিয়ে এবং গবেষণার জন্য বাংলা পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন। বৌদ্ধ ধর্মের বাণী নিয়ে বাংলার অতীশ দীপঙ্কর হিমালয় পর্বতমালা অতিক্রম করে চীন পৌঁছেছিলেন। চীনা জাতি এবং বাঙালি জাতি উভয়ে সুদীর্ঘকালে প্রচুর সাফল্য সৃষ্টি করেছে। এই ঐতিহাসিক সম্পর্ক বোঝা এবং সুরক্ষার মাধ্যমে কাজে লাগানো উচিৎ। দুই দেশের উচিৎ মানব সম্পদের যৌথ উন্নয়ন করা। গত বছর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য এক হাজার ২৫০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, চীন বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। আর দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ চীনের তৃতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার।

চীনকে বৃহত্তম উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে উল্লেখ করে লিও বলেন, বিশ্বের কোনো দেশ অন্যের সহযোগিতা ছাড়া এগিয়ে যেতে পারে না। তাই সবাই এক ধরণের অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে। এসময় তিনি চীনের উন্নয়ন এশিয়া ও বিশ্বের জন্য হুমকি নয়। বরং সুযোগ বয়ে আনবে বলে মন্তব্য করেন। লিও ইয়েনতোং বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ‘শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান’ থেকে ‘সহযোগিতা ও কল্যাণের নীতি’তে রূপ নিয়েছে। এটাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক তৈরির বিষয়টি যুগোপযোগী প্রবণতা ও অধিকাংশ মানুষের আন্তরিক আকাঙ্খা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*