ব্রেকিং নিউজ
Home | লোহাগাড়ার সংবাদ | অন্তহীন সমস্যায় লোহাগাড়া পুটিবিলার তিনঘরিয়া পাড়া

অন্তহীন সমস্যায় লোহাগাড়া পুটিবিলার তিনঘরিয়া পাড়া

13-03-2015 copy

মোঃ জামাল উদ্দিন : লোহাগাড়ার পুটিবিলা ইউনিয়নের তিনঘরিয়া পাড়ায় সমস্যার অন্ত নেই। এ পাড়ায় মোট ২৬টি পরিবারের দু’শতাধিক লোকের বসবাস। অধিকাংশই ভূমিহীন ও গরীব। সরজমিন এ প্রতিনিধি জানতে পারেন প্রধান সমস্যা পানীয় জলসংকট। সন্নিহিত সুখছড়ি খালের প্রবাহের উপর মূলতঃ তারা নির্ভরশীল। খালটি বর্তমানে শুকিয়ে গেছে। শুকনা খালে ছোট ছোট গর্ত করে জলসংকট নিরসনের চেষ্টা চালান তারা। গর্তের এঁদো পানি দিয়ে ধোয়া ও বাসন-কোসন পরিস্কারের কাজ করা হয়। কয়েক ব্যক্তি মধ্যপ্রাচ্য থাকেন। তাদের টিউবওয়েল রয়েছে। এ টিউবওয়েলই পাড়ার লোকজনের পানীয় জলের অন্যতম উৎস। ঠুনকো অজুহাতে অবস্থাপন্নরা পানীয় জল বন্ধ করে দিলে পোয়া কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত ছমদিয়া মাদ্রাসা কিংবা খালেকিয়া দরবার শরীফ থেকে পানীয় জল সংগ্রহ করা হয়। তিন ঘরিয়া পাড়ায় অধিকাংশ লোকের স্বাস্থ্য সম্মত পায়খানা নেই। সুখছড়ি খালের ঝোপঝাড়ে তারা প্রাকৃতিক কাজ-কর্ম সারেন। ব্র্যাক ওয়াশ কিংবা উপজেলা পরিষদ থেকে কমমূল্যে সরবরাহ করা স্যানিটারী ল্যট্রিন তারা টাকা অভাবে যোগাড় করতে পারেন না। পারেননি। বেশীর ভাগ লোকজনের পেশা দিনমজুরী কিংবা কাঠ মিস্ত্রি। কাজ করতে না পারলে অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটে। যাতায়াতে দূর্ভোগের সীমাহীন সমস্যা নিরসনের দাবী দীর্ঘদিন। সুখছড়ি খালের সাথে মূল রাস্তার সংযোগস্থল সংস্কার করলেই এ সমস্যার সমাধান হয়। চেয়ারম্যান-মেম্বারগণ ভোটের সময় সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। পরে দেখা মেলে না। পাড়ার অধিকাংশই বিধবা। যারা সংকটে আছেন। অনেকে চাঁটাই বানিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। মাবিয়ার দু’বার বিয়ে হলেও দু’বারই স্বামী মারা গেছেন। তিনি মারাত্মক পেটের পীড়ায় আক্রান্ত। ঔষধ কিনতে না পারায় ধুকে ধুকে দিন কাটাচ্ছেন। কমিউনিটি ক্লিনিক কি তা জানেন না। স্বাস্থ্য কর্মীদের দেখা মেলেনা বলে তারা জানিয়েছেন। তিন ঘরিয়া পাড়াটি আবদুল খালেক শাহ ছাহেব দরগাহ সন্নিহিত সুখছড়ি খালের দক্ষিণ পাড়ে গেলে দেখা মিলবে। দেশের নাগরিকদের মৌলিকদাবী অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান। শিক্ষা এ পাড়ায় কথার কথা। নারীরা এখানে শিক্ষার আলো পাননি। পাচ্ছে না। তারা সন্তান প্রজননের যন্ত্র হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছেন। সামাজিক বেষ্টনির আওতায় বয়স্ক কিংবা বিধবা ভাতা পেয়েছেন তিনজন। সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করে এ পাড়ার মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা যায়। অথচ দেখার কোথাও কেউ নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*